আপনি নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন রফিক ভাই

।।।সরকার মাজহারুল মান্নান।।

আপনাকে সুস্থ হতেই হবে প্রিয় রফিক সরকার ভাই। কারণ, আপনার এখনো অনেক কাজ বাকি। আপনার অপেক্ষায় ভালো সাংবাদিকতার সোনালী দিন। আপনার অপেক্ষায় আমরা সবাই। আপনার অপেক্ষায় আপনার সাংবাদিক সংগঠন। আপনি সুস্থ হবেনই।

আল্লাহর কাছে আমার মতো অসংখ্য মানুষের প্রার্থনা এটি। উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ আপনাকে নেয়া হচ্ছে ঢাকায়। তবুও আপনার সেই হাসিমাখা মুখ আমাকে বড় বেশি অনুপ্রাণিত করে।

আপনার ঠিক মনে আছে কিনা জানিনা রফিক ভাই। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা এক ছাপোষা তরুণ আপনার শহরে সাংবাদিকতায় নয়া অতিথি আমি। কত সহজেই আপনি আমাকে গ্রহণ করলেন। জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সের ঠিক উত্তর দিকের পশ্চিমে থাই গ্লাস ঘেরা আপনার অফিস।

ডেইলি স্টারের করেসপন্ডেন্ট তখন আপনি। আপনার ওই অফিস থেকে ঘিরেই শুরু হলো আমার পথচলা। সকাল-দুপুর- বিকেল-রাত, গভীর রাত পর্যন্ত। আপনার অবশ্যই মনে থাকবে কমপ্লেক্সের নীচতলার প্রবেশপথেই ডানপাশে সেই সাইবারক্যাফের কথা। যেটি ছিল একসময় আপনার অনেক স্বপ্নের। রংপুরে নেট দুনিয়ার প্রথম উদ্যোক্তা ছিলেন আপনি। তখন অনেকেই নেট ব্যবহার করতে জানতেন না। আপনি ধরে ধরে শিখিয়েছেন। আমার মনে আছে প্রায় সময়ই আমাকে আর আপনাকে অনেকের মেইল নম্বর খুলে দিতে হতো। সেই সময় অনেকেরই মেইলের পাসওয়ার্ড ছিল আপনার এবং আমার মোবাইল নম্বর এবং রিকভারি মেইল নম্বরও ছিল আমার আর আপনার।
আপনার মেইলটা কিন্তু yahoo.com ছিল। rafiq_alien@yahoo.com এখনো আছে সেটি আপনার।

আজও সেই রহস্য আপনি আমার কাছে ভেদ করেননি। alien কেন দিলেন। এই প্রশ্ন যে আমি আপনাকে কতবার করেছি, কত যে বিরক্ত হয়েছিলেন, সেটা বোঝাতে পারব না আপনাকে। তবুও আপনি বলেছিলেন, তুই ছোট সব জিনিস জানতে হয় না। আপনার সেই কথায় কি মমত্ববোধ থাকতো; আমি উপলব্ধি করতাম। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম আপনার দিকে। আপনার হাসিমাখা মুখ, অপলক তাকিয়ে থাকা সেই চোখ। ঠোঁটের নাচন। একসাথে সংবাদ কভার করতে যাওয়া। কত খুনসুটি, কত কি? বিশেষ করে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আশরাফ মামা যদি আমাদের সঙ্গী হতেন তাহলে কতই না ইয়ার্কি করা হতো। তাল মেলাতেন বাপ্পি ভাই। বাপ্পি ভাই ছিলেন আমাদের অন্তঃপ্রাণ পুরো টিমের।

সেই সময় প্রায় প্রতিদিনই আমরা আপনার অফিসে বসতাম। সাথে থাকতেন রউফ ভাই, বাপ্পি ভাই, জাকির ভাই, বুলু ভাই, মেরিনা লাভলী আপু, তৌহিদুল ইসলাম বাবলা চাচা, লিটু আনামসহ অনেকেই।
প্রিয় রফিক ভাই, রংপুরের সব সাংবাদিকদের একত্রিত করবার যে প্রয়াসটি হয়েছিল সেটিও কিন্তু আপনার ওই ডেইলি স্টার অফিসেই। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল আজকের রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব। ২০০৪ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর, সবাইকে একত্রিত করে আপনার অফিসেই হাতে হাত রেখে প্রথম তৈরি হয়েছিল রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রথম আহ্বায়ক কমিটি। শ্রদ্ধেয় সালেক চাচাকে করা হয়েছিল প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক। আমি, লাভলি আপু, বাবলা চাচা, হালিম আনসারী ভাই, রউফ ভাই, বাপ্পি ভাই, জাকির ভাই, মরহুম লিটু আনাম সহ অনেকেই আমরা ছিলাম আহ্বায়ক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পরে আপনাকে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, হালিম আনসারী ভাইকে প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং আমাকে প্রতিষ্ঠাতা কোষাধক্ষ্য করে যাত্রা শুরু হল রংপুর রিপোর্টাস ক্লাবের। জি এল রায় রোড (বর্তমান বন্দ শোরুমের) পেছনে মইনুল ভাই এর আধাপাকা ঘরে ভাড়ায় শুরু হলো ক্লাবের কার্যক্রম। পরবর্তীতে চাউল আমোদ রোডে সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া জমিতে বিল্ডিং বানাতে গিয়ে যে বাধা তৈরি হয়েছিল। সেই বাধা ভাঙতে প্রথম হুংকার দিয়ে ছিলেন আপনি। সাথে ছিলাম বাবলা চাচাসহ আমরা সবাই। আপনার সেই তেজোদীপ্ত হুংকারে শুরু হয়েছিল রিপোর্টাস ক্লাবের ইটের গাঁথুনি, সাথে অগ্রযাত্রার মাইলফলক।

আপনার প্রতিষ্ঠিত রিপোর্টার্স ক্লাব এখন রংপুরের প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিকদের সংগঠন। আপনি এখন রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। আপনার সাংগঠনিক দক্ষতা আপনাকে আপনার উপযুক্ত স্থানে বসিয়েছে। আপনি এখন রংপুরের সমস্ত সাংবাদিকদের মাদার সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমরা সবাই আপনাকে মানি। তাইতো প্রার্থনা, আপনাকে সুস্থ হতেই হবে। আমাদের কাছে ফিরে আসতেই হবে। সাংবাদিকদের পাশে থাকতে হবে হবে আপনাকে।

ক্যারিশম্যাটিক ক্যারিয়ার আপনার। অসম্ভব ভালো ইংরেজি বলতে পারেন আপনি। বলার ঢংটাও চমৎকার। কর্মশালায় বাংলার সাথে ইংরেজি মিশিয়ে আপনার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা সবাইকে মুগ্ধ করে। শিক্ষকতা পেশায়ও আপনি শিক্ষার্থী বান্ধব, শিক্ষার্থী প্রিয়। আমি শুনেছি যেদিন আপনার ক্লাস থাকে, সেদিন কোন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকেন না। গণমাধ্যমেও আপনি সর্বেসর্বা। বাংলাদেশের মেডিয়া কিং ডেইলি স্টার হয়ে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনে সিনিয়র রিপোর্টার আপনি। মাছরাঙ্গা টেলিভিশনে আপনার পোত এতটাই স্বচ্ছ যে সেখানকার অনেকেই আপনাকে সমীহ করে চলেন। মাছরাঙ্গা টেলিভিশন ও দর্শকদের জন্য তো আপনাকে সুস্থ হয়ে ফিরতে হবে ভাই।
পিতা হিসেবেও আপনি সার্থক। ইতোমধ্যেই আপনার পুত্র একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেছে। তার বুদ্ধিমত্তায় স্পষ্ট সেও অনেক ভাল কিছু করবে। আপনার প্রিয় সন্তান এবং ভাবির জন্য আপনাকে সুস্থ হতে হবে ভাই। তাদের জীবনের শিরায় শিরায় আপনার উপস্থিতি সারাক্ষণ। আপনাকে অবশ্যই সুস্থ হয়ে ফিরতে হবে ভাই।
সেই ২০০৪ সাল থেকে বড় ভাইয়ের মতো কখনো শাসন, কখনো আদর, কখনো বারণ করছেন আপনি আমাকে। ‘পথ মসৃণ নয়, দেখে শুনে চলতে হয়, সাবধানে চলতে হয়।’ এটি আমাকে বলা আপনার নিত্য নৈমত্তিক বারতা। যা আমি মেনে চলবার চেষ্টা করি। অন্তত আমাকে শাসন-বারন করবার জন্য আপনি সুস্থ হয়ে ওঠেন ভাই। সুস্থ আপনাকে হতেই হবে। আমার জোড় প্রার্থনা আল্লার কাছে।

(লেখাটি যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সরকার মাজহারুল মান্নান এর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *