উচ্চ শিক্ষার জন্য তুরস্কে গেলেন হাতীবান্ধার অদম্য মেধাবী দুই শিক্ষার্থী

উচ্চ শিক্ষার জন্য তুরস্কে গেলেন হাতীবান্ধার অদম্য মেধাবী দুই শিক্ষার্থী

0
SHARE

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দিনমজুরের ঘরে দুই মেধাবী শিক্ষার্থী তুরস্কের বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য তুরস্কের গেলেন অদম্য মেধাবী  মেহেদী ও পল্লবী। মঙ্গলবার রাতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃকপক্ষ তাদের সংবর্ধনা প্রদান করেন।71832648_10157363054504564_5494201712132489216_n

জেলার হাতীবান্ধায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “আলোকিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তুরস্কে শিক্ষা বৃত্তিপ্রাপ্ত নিয়ে প্রতিবছরে ন্যায় এবারও অদম্য মেধাবী দুই শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার জন্য তুরস্কে গেলেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ পারুলীয়া গ্রামের দিনমজুর ফজলুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান। সে পারুলীয়া তফসলী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিকে জিপিএ ৫ ও হাতীবান্ধা আলীমুদ্দিন সরকারি কলেজ থেকে সফলতার সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

মেহেদী হাসান তুরস্কে শিা বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়ে Konya Teknik University থেকে Metal and Materials Engineering বিভাগে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।

মেহেদী হাসানের বলেন, উচ্চ শিক্ষার জন্য স্বপ্নটা ছিল ছোটবেলা থেকে। ইনশাআল্লাহ আমি আমার স্বপ্নে পা রাখতে চলেছি। আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আলোকিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতি।

মেহেদী হাসানের বাবা ফজলুর রহমান বলেন, আমি নিজেই একজন দিনমজুর আমার ছেলে তুরস্কে পড়াশুনা করবে তা কখনও ভাবিনি। তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনাপয়সায় পড়াশুনা করবে এটা ভাগ্যের ব্যপার।

পল্লবী রায়ের বাবা একজন শ্রমিক ও দিনমজুর। উপজেলা দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের পবিত্র নাথ রায়ের মেয়ে। জায়গা জমি নেই অতি কষ্টে মেয়ে পড়াশুনা করিয়েছেন তিনি।72423551_10157363054529564_1670139445124268032_n

সে হাতীবান্ধা সরকারী এস এস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালের বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা জিপিএ ৫ ও হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি।

পল্লবী রায় এবছর আমিও তুরস্কে Selcuk University থেকে  Agricultural Economy বিভাগে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।

পল্লবী রায়ের মা রতনা রানী বলেন, আলোকিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আমার মেয়েকে বিনা পয়সায় উচ্চ শিক্ষার জন্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন তাই আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

পবিত্র নাথ রায় বলেন, সত্যি বলতে কৃতজ্ঞতার ভাষা আমার জানা নেই। হতদরিদ্র ঘরের সন্তানদের দেশের বাহিরে পড়াশোনার সুযোগ করেদিয়েছে।

পল্লবী রায় বলেন, জীবনে কোনো দিনও ভাবি নি যে, বিদেশে যাবো উচ্চ শিা নিতে। হতদরিদ্র পরিবার থেকে আমাদের অলীক স্বপ্ন পূরন হতে চলছে আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

আলোকিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুধু তুরস্কেই নয় চীন, জাপান, রাশিয়া ও কোরিয়াতেও উচ্চ শিার জন্য মেধাবী শিার্থীদের বৃর্ত্তির সুযোগ করে দেয়। এছাড়াও ইউিনভার্সিটিতে, মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরত অনেক দারিদ্র শিার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকে।

এ ব্যপারে আলোকিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইফতেখার হোসেন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও মেধাবী দুই শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার জন্য তুরস্কে গেল। তুরস্কের সরকার বিনা পয়সায় বাংলাদেশী দরিদ্র শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন।

print

LEAVE A REPLY