৯৯৯- নম্বরে ফোন করায় নির্যাতন-মিথ্যা মামলার নেপথ্য কি? দেখার অপেক্ষা, কি ঘটে...

৯৯৯- নম্বরে ফোন করায় নির্যাতন-মিথ্যা মামলার নেপথ্য কি? দেখার অপেক্ষা, কি ঘটে প্রতিফলন!

0
SHARE

কেস স্টাডি : 

বিরোধপূর্ণ জমিতে ইটের নির্মাণাধীন দেয়াল, ইটের প্রাচির ভাঙচুরে ক্ষতি হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নির্মা কাজের জন্য রাখা ৯০ হাজার টাকার ইট ভ্যান যোগে লুট করে ভাঙচুরকারীরা। খবর পেয়ে ভাঙচুরে বাঁধা দেয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৮-৯ নারী-পুরুষ। এসময় ভাঙচুরকারীরা তাদের কয়েকজনকে পিটিয়ে জখমও করেন বলে অভিযোগ।

তাদের দুই নারীকে টানাহেচড়ার পর গলার থাকা স্বর্ণের চেন (দাম ৩৯ হাজার করে, মোট ৭৮ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয় ভাঙচুরকারীরা। পুলিশের উপস্থিতিতে নাকি ভাঙচুরকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয় ওঠেন, এজাহারে তাই উল্লেখ আছে। হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের এসব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রভাত চন্দ্র নামে এক ব্যবসায়ী মামলা করেছে প্রতিবেশি সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ আছে। এরআগে, ১১ সেপ্টেম্বর জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় প্রভাত চন্দ্র গংদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন সাজু মিয়া।

এজাহারে আরও বলা হয়, প্রতিপক্ষ ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে দেয়াল, প্রাচীর ভাংচুর চালায়। মামলায় ভাড়াটিয়া ‘বাহীনির’ কথা উল্লেখ করা হলেও আসামি করা হয় মাত্র ৬ জনকে। এই ৬ আসামি একই পরিবারের, প্রধান আসামি সাজু মিয়া। এছাড়া তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ভাইকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাত আসামি আছে ৫/৬ জন। সাজু মিয়ার দুই মেয়ের একজন ঢাকায় ও আরেকজন থাকেন চট্রগ্রামে স্বামীর সঙ্গে। ডিগ্রী পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকা থেকে সন্তানসহ ঘটনার কয়েকদিন আগে বাসায় আসে ছোট মেয়ে শাম্মি। ঘটনার দিন স্ত্রী বাসায় ছিলেন না। বড় মেয়ে আছে চট্রগ্রামেই। কিন্তু তারপরেও তাদেরকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি সাজু মিয়ার।

ঘটনার ১৫ দিন পর ভুক্তভোগিরা পরিবার-পরিজন নিয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ঘটনা তুলে ধরে বলছেন, আসামিদের হুমকি-ধামকিতে তারা এখন নিরাপত্তাহীন ভুগছেন। নিজেদের সংখ্যালঘু দাবি করে প্রতিকার চান সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। সংবাদ সম্মেলনে তাদের তুলে ধরা বিষযটি পড়ে দেখলাম। কয়েকদিন আগেই ঘটনা সসম্পর্কে জেনেছি। হামলা-অভিযোগ, মামলা, জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছি কয়েকদিন। এরপর আরও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছি স্থানীয়দের কাছে। ২৫ সেপ্টম্বর সরেজমিনে গিয়েছি, দেখেছি ভাঙচুর-জমি দখলে নেয়ার চিত্র। কথা বলেছি,  ভুক্তভোগী-অভিযোগকারী দুই পক্ষের সঙ্গেই। জমির প্রকৃত মালিকদের সঙ্গেও কথা বলেছি।

জমি নিয়ে বিরোধ-ভাঙচুর, হামলা-লুটপাটের ঘটনা বা কারো অভিযোগ নিয়ে পর্যালোচনা-অনুসন্ধান নয় ; এসব বলছি ঘটনাটি সহজে বোঝার জন্য। এ মামলার সঙ্গে জড়িত আছে, জাতীয় জরুরী সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল করায় নারীকে নির্যাতনের ঘটনা।নির্যাতনের অভিযোগের তীর খোদ পলিশের দিকে। বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর লুটপাট এবং দখলের পরিকল্পনা নেয় প্রতিপক্ষরা। সহযোগিতা চেয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর ওই নারী ফোন করে ৯৯৯ নম্বরে। তখন পরামর্শ ও সহযোগিতাও মেলে কিছুটা। পরপর তিনবার ফোন করে সহাযোগিতা চায় ভুক্তভোগী। কিন্ত সহযোগিতা চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর ১২ সেপ্টম্বর রাতে হামলা-ভাঙচুর ঘটনার পর সকাল হতে না হতেই নারীর বাসায় উপস্থিত ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ কর্মকর্তা নওয়াবু রহমান। বাসায় ওই নারী একাই ছিলো। নওয়াবুর তার কাছে জানতে চায়, তোর বাবা-মা কোথায়। বাসায় নাই জানালে তাকে গালিগালাজ করে নওয়াবুর, এরপর বলে, তুই চল ফাঁড়িতে, তোকে আজ দেখাব, তুই মাতব্বর হইসিস, তুই পুলিশের বিরুদ্ধে ৯৯৯ কল করিস, তোকে জেলের ভাত খাওয়াব। পরে তাকে ধরে নিয়ে যান ফাঁড়িতে যায় নওয়াবুর।

৯৯৯ নম্বরে কল করে সহযোগিতা চেয়ে নারী নির্যাতনের ঘটনাটি প্রতিপক্ষ প্রভাত চন্দ্র গংদের ভাঙচুর-দখল মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে যমুনা টেলিভিশন ও বাংলা ট্রিবিউনে প্রথম সংবাদ প্রচার হয়। এরপর সময়, চ্যানল ২৪ টুয়েন্টিফোর ও বিভিন্ন পত্রিকা-অনলাইনে ফলাও করে সংবাদটি প্রচার হয়। ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে ঘটনাটি। সর্বত্রই তোলাপাড়-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এরআগে, ভুক্তভোগি ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ২২-২৪ সেপ্টম্বর লিখিত অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বরাবরে। ২৪ সেপ্টেম্বর ধাপেরহাটে যুবলীগ নেতা পলাশকে আটক করাকে কেন্দ্র করে উত্তাপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই পরিস্থিতি ও নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা নওয়াবুরকে প্রত্যাহার করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

মুলত ; ২০১৪ সালে প্রভাত চন্দ্র গংরা নির্যাতনের শিকার নারীর চাচা-ফুপুর ৫ শতক জমি ক্রয় করে। সেই জমি দাবি করে সাজু মিয়ার কাছে। সাজু মিয়ার পৈত্রিক ৫ শতক ও ক্রয় করা ৩ শতক মোট ৮ শতক জমি ছাড়াও প্রভাতদের ক্রয় করা ওই ৫ শতক জমি দখলে ছিলো। কিন্তু পৈত্রিক সম্পত্তি, ভাইয়ের কাছে ক্রয় করা সম্পত্তি আর ভাগিদের ভাগবাটোয়ারা সম্পর্ন না হওয়ায় এবং ভাইদের মধ্যে মনোমানিল্য পক্ষ-বিপক্ষ থাকাসহ জমি দখল-ছেড়ে দেয়া নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় সাজু মিয়া তাদের টাকা দিয়ে ওই জমি ক্রয় করতে চায়। সাজু মিয়ার কথা সম্মতি দিয়ে জমির দাম ঠিক করে ৭ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন প্রভাত গংরা, টাকা গ্রহণের সময় তার ভাই শরিফুল, জহুরুল ও সাহারুল ছিলো। পরবর্তীতে জমি দিবেনা জানিয়ে টাকা ফেরতে তালবাহনা করে প্রভাত গংরা। সেই জমি দখলে নিতে পরিকল্পনা, কৌশলে নানা ফন্দি-ফিকির করে প্রভাত চন্দ্ররা। জমি দখল বাস্তবায়ন করতে তারা সাজু মিয়ার ভাইদের ম্যানেজ কর। ম্যানেজের পর থেকে তাদের সহযোগিতায় যেন প্রভাব বাড়তে থাকে প্রভাত গংদের। প্রভাব-দাপটের সংঘবদ্ধ হয়ে তারা জমি দখলে নেয়ার পায়তারা করে। এরমধ্যে দ্বন্ধ বিরোধ তুঙ্গে উঠে। ঘটনা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। আদালতে ১১ সেপ্টম্বর নালিশি মামলা করেন সাজু মিয়া। এতে আরও ক্ষিপ্ত ও সংঘবদ্ধ হন প্রভাত চন্দ্ররা। এক পর্যায়ে ১২ সেপ্টম্বর সাজুর বাসায় হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের তাণ্ডব চালায় প্রভাত গংরা।

ওই জমি নিয়ে দ্বন্দ-মামলা জমি দখল আর সাজুর পরিবারকে উচ্ছেদ করতে গোপন আতাত করেন স্থানীয় পুলিশ পরির্দশক নওয়াবুরের সঙ্গে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইন্দন দেন সাজুর মিয়ার ভাই-বোন। পুলিশের সঙ্গে আতাতের ভুমিকা-ম্যানেজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাজুর ভাই-প্রভাত এমন অভিযোগ ভুক্তভোগি সাজুর পরিবারের। সাজু মিয়ার দাবি, স্ত্রী নিয়ে থাকেন বাসায়। দুই মেয়ে স্বামীর সঙ্গে। বয়স হয়েছে, ছেলে নেই তারওপর বাসা ফাঁকা। আপন ভাই-বোন বিপক্ষ হয়েছে, তারা ইন্দন দিচ্ছে প্রভাতদের। সেই সুযোগেই প্রভাতরা তাদের বাসা ভাঙচুর করে ক্ষতি সাধন করে এবং ইটের প্রাচীর দিয়ে দখলে নেয় জমি। তাদের হামলার যে তাণ্ডব ছিল তা দৃশ্যমাণ, স্থানীয়রা দেখেছেন ঘটনা। আমিসহ স্ক্রী ও পরীক্ষা দিতে আসা ছোট মেয়ে ঘটনা দেখে হতম্বব। নিরুপায়, অসহায় হয়ে শুধু চোঁখেই দেখেছি। মেয়ে সাহয্য চেয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করেছে কয়েকবার। তাছাড়া কেউ আসেনি, কেউ বাঁধা দেয়নি, পুলিশকে ডেকেও পাইনি, ঘটনার অনেক পর পুলিশ এসে থানায় ডেকে যান। বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাট হয়েছে, ৫ শতক জমি ছাড়াও বেশি জমি দখলে নেয় প্রতিপক্ষরা।

এরপরে উল্টো ভাঙচুরের মিথ্যা-সাজানো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মামলা করে প্রভাত চন্দ্র। আর সেই ভাঙচুর-লুটপাটের কবল থেকে রক্ষা পেতে মেয়ে ৯৯৯ ফোন করে, ফোন করে সহায়তার পরিবর্তে হতে হয়েছে নির্যাতনের শিকার। পুলিশ প্রভাবিত হয়ে প্রতিপক্ষকে ভাঙচুর-লুটপাট আর দখলের সহযোগিতা করেছে। পুলিশ কর্মকর্তা নওয়াবুর বরবরেই তাদের অসহযোগিতা করে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করেই ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে মিথ্যা মামলা করেন তারা। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি প্রভাত গংরা। এখনও নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে বিরোধ-মামলা আছে, সে মামলা চলবে, আদালতের রায় মেনে নিবো। কিন্তু ৯৯৯ নম্বরে কল করায় পুলিশ মেয়েকে যেভাব নির্যাতন করেছে তার বিচার চাই। দ্রুত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার দাবিও তার।

জাতীয় সেবা ৯৯৯ থেকেও সেবার পরিবর্তে নির্যাতনের অভিযোগ এবং তা গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে। পুলিশ, ৯৯৯ সংশ্লিষ্ট ও আইনশৃঙ্খলাবাহীনর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি অবগত। যেখানে প্রতিনিয়ত ৯৯৯ কল করে জরুরী সেবা পাচ্ছে জনগন সেখানে উল্টা নির্যাতন, তাও অভিযোগ খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই। তাই ঘটনাটি সুষ্ঠভাবেই খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করি। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে তা দৃশ্যত থাকবে।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ৯৯৯ কল করার কারণে কেন এতো ক্ষিপ্ত হলেন, কেন এভাবে অশ্লিল গালি, মামলা, অভিযোগ ছাড়াই তুলে নিয়ে ফাঁড়িতে গেলেন, সেখানে গালির সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে কল করার খেসারত হিসেবে নারীর জুটবে পুলিশের বুটের আঘাত, গ্রাম নারী পুলিশ তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করবে, এমন আঘাত নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য কতটা অপরাধী ওই নারী, তাও পরিষ্কার করতে হবে। এমন ঘটনার কারণে চলতি ডিগ্রী পরীক্ষাসহ শিক্ষা জীবন এখন অনিশ্চিত ওই নারীর। আলোচনা-সমালোচনা আর লোকলজ্জায় বাসা থেকে বের হতে পারছেনা ভুক্তভোগিসহ পরিবারের লোকজন। এতে পারিবারিক-সামাজিক মর্যাদা এবং ঘটনাটি ওই নারীর জীবনে প্রভাব পড়ছে ; কিন্তু এই অপমান বোধ আর নির্যাতন-হয়রানীর দায় কে নিবে?

পুলিশ পরির্দশক নওয়াবুরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ৯৯৯ নম্বরে কল করে নির্যাতন ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছেন তিনি। বসে নেই প্রতিপক্ষ প্রভাত গংরাও। অভিযোগ থেকে বাঁচতে নওয়াবুর আর প্রভাত গংরা কয়েক দফায় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বুদ্ধি-পরার্মশে পরিকল্পনা করেছেন। সেই পরিকল্পনার মধ্যে সংবাদ সম্মলনের আয়োজন করেন। প্রশ্ন হচ্ছে, দেরিতে হলেও সংবাদ সম্মলন করেছে তারা। সংবাদ সম্মলন তো স্থানীয়ভাবে ধাপেরহাট, সাদুল্যাপুর প্রেসক্লাবে অথবা সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ঘটনাস্থলে করা যেত? কিন্ত তা না করে গাইবান্ধায় কেন? ভালো কথা, হয়তো জেলা পর্যায়ের সিনিয়র-দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা থাকবেন সম্মলনে, তারা তুলে ধরবেন প্রকৃত সত্য ঘটনা। কিন্তু বাস্তবতায় তা হয়নি, সংবাদ সম্মেলন হয়েছে একটি সাংবাদিক সংগঠনে। ভুক্তভোগীর পরিবারের উপস্থিত সদস্য সংখ্যার চেয়ে সম্মলনে সাংবাদিক উপস্থিতি ছিলো কম। সম্মেলনে ব্যানারে ফলাও করে লেখা “সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা”। এরআগে, ঘটনাটি স্থানীয় সংবাদকর্মীরা যেমন অবগত তেমনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করেন।

আমি মনে করি, সংখ্যালঘু-হিন্দু সম্প্রদায়, মুসলমানসহ সবজাতি নিয়ে আমরা সমাজবদ্ধ। আমরা সকলেই এক। তাই অধিকার, বিচার দাবি আইনে সবার সমান। কিন্তু মিথ্যা দাবি, সাজানো ঘটনা আর প্রকৃত ঘটনা আড়াল-ভিন্ন দিকে ঠেলে অধিকার-বিচার আশা করা কতটা সফল? না এভাবে শুধু হয়রানিই বাড়বে, সফল তো দুরের কথা। এ ঘটনায় প্রভাত চন্দ্রের সঙ্গে কারা সংঘবদ্ধ, কার কি ইন্দোন, নেপথ্যে সহযোগিতা কার, পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্ব মুলক আচরণ, নির্যাতনের কর্মকাণ্ডের পরেও প্রতিপক্ষ ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টায় মরিয়া’। কোন কারণ, বিনিময় ছাড়াই নিজের অবস্থান-দায়িত্ব থেকে আমি ঘটনাটি তুলে ধরেছি। অসহায়-নির্যাতিত মানুষের কথা বলাই তো আমাদের কাজ। প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি এমন অসহায়-নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকার, তাদের পক্ষে কথার বলার। জেলা, উপজেলা ও ধাপেরহাটের সংবাদকর্মী যারা আমার সহকর্মী আছেন, আপনারাও ঘটনা অনুসন্ধান করুন। আশা করি, নিজেদের দায়িত্ব আর অনুসন্ধানেই ঘটনার সত্যতা তুলে ধরবেন। ঘটনাটি নিয়ে যে কেস্ট স্টাডি; ঘটনার তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বিশ্লেষণ একান্ত নিজের। আমি যা বলছি তা মিথ্যাও হতে পারে, তবে যেহেতু মামলা আছে, তদন্ত হবে আদালতে বিচারও হবে। তখন মিলিয়ে নেয়া যাবে? সে অপেক্ষা এখন। তবে কিছু প্রশ্ন থাকছে?

## ঘটনা যা ঘটেছে, মামলার এজাহারের বর্ণনা আর সংবাদ সম্মেলনের বর্ণনা পৃথক। হামলার যে বর্ণনা তাতে ৬ জন আসামি হয়েছে। এরমধ্যে তিনজনেই নারী। ঘটনার খবর পেয়ে তো বাদির পরিবারের ৯-১০ এসেছিলেন। এই ৬ জনের কাছে নাকি তারাও পরাজিত, মার খেয়ে জখম হয়েছে, গলার চেন ছিনিয়ে নিয়েছে, ভ্যান যোগে ৯০ হাজার টাকার ইটও লুটে নিয়েছে, ইটের প্রাচীর-দেয়াল ভেঙেছে!!! ৬ জনের দ্বারা এমন ঘটনা কি সম্ভব? এজাহারে উল্লেখ, পুলিশ উপস্থিতিতেই নাকী ভাঙচুরকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়, কিন্তু সে সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কেন, কাউকে আটক করেনি। পুলিশ কি শুধু দাঁড়িয়ে ভাঙচুর-লুটপাট দেখেছে? ভাড়াটিয়া বাহিনী ছিলো ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায়, বাদি এজাহারেই উল্লেখ করেছেন- কিন্তু মামলায় আসামি সংখ্যা ৬ জন, তাদের তিনজন পুরুষ তিনজন নারী। অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন আসামি আছে। এতো আসামি কম কেন, বাহীনি বলতে অন্তত ২০-৩০-৪০ জন বুঝায়? ঘটনার সময় বাদিসহ পরিবারের ৮-১০ জন উপস্থিত ছিলেন, তারা কি ভাঙচুরকারী কাউকে মারধর কিংবা আটক করতে পারেনি। ভাঙচুরকারী ৬ জন অজ্ঞাতসহ ১২ জন কি এতোটাই শক্তিশালী ছিলেন যে, হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট সবেই চালিয়েছে একসঙ্গে?? ঘটনা, সরেজমিন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে ঘটনা স্পর্ষ্ট,,, খোঁজখবর, জানা-শোনা করলেই ঘটনা বুঝতে পারবেন যে কেউ।

মিথ্যা, সাজানো, অনিয়ম-দুর্নীতি, দাপটের দুনিয়ায় আর কত কি ঘটবে। সব খতিয়ে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করা দরকার: মামলা, অভিযোগের তদন্তও যেন হয় প্রভাব-বাণিজ্যে মুক্ত। প্রকৃত দোষিদের আইনে বিচার হোক, এটাই চাওয়া।__দেখার অপেক্ষা : কি ঘটে প্রতিফলন!!!

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি, যমুনা টেলিভিশন, বাংলা ট্রিবিউন। ০১৭৭৭৭৭৮১৩৪

print

LEAVE A REPLY