বেড়াই যদি ক্ষেত খায়, তাহলে রাষ্ট্র চলবে কী করে ?

বেড়াই যদি ক্ষেত খায়, তাহলে রাষ্ট্র চলবে কী করে ?

SHARE

লেখক: আসাদুজ্জামান সাজু

সাধারণ লোকজনের কাছ থেকে কম দামে চামড়া কিনে এতিম-মিসকিনদের পেটে নিষ্ঠুরতায় লাথি মারা হয়েছে । চামড়া যখন সিন্ডিকেটের গুদাম ঘরে চলে গেছে, ঠিক তখনেই কাঁচা চামড়া বিদেশে রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়া হলো ।

এ সিদ্ধান্ত এতিম-মিসকিনদের কোনো উপকারেই আসবে না এটা আমি শতভাগ নিশ্চিত ।লাভবান হলে হবেন সিন্ডিকেটের লোকজন…।

এখানেই শেষ নয়,এখন কাঁচা চামড়া বিদেশে রপ্তানির সুযোগ দিয়ে দেশের ট্যানারি শিল্পকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া যড়ষন্ত্র হচ্ছে অনেকটা ।

কাঁচা চামড়া রপ্তানি হলে দেশীয় শিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়বে কিছুটা । সিদ্ধান্ত গুলো রাষ্ট্রের নীতি-নিধারকরা নিয়েছেন তারপরও সবই যেন মনে হচ্ছে, পরিকল্পিত যড়ষন্ত্র ও সিন্ডিকেটের লুটপাটের জন্য মহাকারসাজি ।এতিম-মিসকিনের হক মারার পর এবার কার স্বার্থোদ্ধারে চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত তা একটু জানা প্রয়োজন মনে হয়….।

পলাশীর যুদ্ধ’র কথা কেন জানি খুব মনে পড়ছে, বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা যাদের বিশ্বাস করে বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়ে ছিলেন তারাই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ষড়যন্ত্রে শামিল হয়ে বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়ে ছিলেন।

যেহেতু, এতিম-মিসকিনরা তাদের প্রাপ্র পশুর চামড়ার ন্যায় মূল্য না পাওয়ায় চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।আর ওই সিদ্ধান্তের কারণে এতিম-মিসকিনরা কোনো ভাবেই উপকৃত হবে না।যারা সুবিধাভোগী তারা এ সুবিধা নিতে পারল না। সেহেতু, এই মুহুর্ত্বে চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন কতটুকু…… ?

যারা দেশের নীতি-নিধারকরা তারাই যদি আবার যড়ষন্ত্রকারীর দলে থাকেন তাহলে আম – জনতা কোথায় নিরাপত্তা পাবেন……?

আমরা কি যুগে যুগে আমাদের মাঝে সৈয়দ মীর জাফর আলী খান ও রায় দুর্লভরা ‘র মত বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি দেখতে পাবো…..?

একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, বেড়াই যদি ক্ষেত খায়, তাহলে রাষ্ট্র চলবে কী করে…..?

লেখক : আসাদুজ্জামান সাজু, সাংবাদিক, দৈনিক মানব কন্ঠ

print