তারাগঞ্জে কাদার কারনের দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

তারাগঞ্জে কাদার কারনের দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

0
SHARE

দিপক রায়, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি :

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় কাদাবন্দী হয়ে পড়েছে ২ ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এতে করে তাদের জীবন যাত্রায় বিভিন্ন বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই শুরু হয় কাদার প্রভাব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের বরাতীর ব্রীজ থেকে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কি. মি দূরত্ব এ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে প্রায় ১৫টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ।

এই বিপুল সংখ্যক মানুষের উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। কিন্তু দীর্ঘদিন রাস্তাটির সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটিতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়।

ফলে সৃষ্টি হয় কাদার। রাস্তাটির মহাসড়ক থেকে বরাতী বাজার পর্যন্ত ১ কি. মি পাকা হলেও বরাতী বাজার থেকে কাশিয়াবাড়ী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কি. মি. দূরত্ব এ রাস্তাটি কাচা থাকায় বর্ষা মৌসুমে এলাকাগুলোর লোকজন একরকম কাদাবন্দী হয়ে পড়ে। ফলে তাদের জরুরী কাজে উপজেলা সদরে যেতে হলে হাড়িয়ারকুঠির ডাঙ্গীরহাট হয়ে ইকরচালীর বামনদীঘি দিয়ে ঘুরে আসতে হয়। এতে করে তাদের প্রায় ১৫ কি. মি. রাস্তা বেশি ঘুরতে হয়।

ফলে দ্বিগুণ খরচের পাশাপাশি তাদের সময়ও নষ্ট হয় অনেক বেশি। ইকরচালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য রবিউল ইসলাম রবি বলেন, আমার ওয়ার্ডের অধিকাংশ জনগণ এই রাস্তা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদসহ উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মহাসড়ক থেকে বরাতী বাজার পর্যন্ত মাত্র ১ কি. মি পাকা হলেও পুরো রাস্তাটিই কাচা পড়ে আছে। ফলে এলাকার জনগণ কাদাপানি পার হয়ে জরুরী কাজে বের হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য আসলেই দুঃখজনক। রাস্তাটি পাকা হওয়া অত্যন্ত জরুরী।
বরাতী কামারপাড়া গ্রামের নমীতা, নিতাই, সতীষসহ বেশ কয়েকজন জানান, এই রাস্তা দিয়ে প্রত্যেকদিন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষের যাওয়া-আসা। বরাতীর কামারপাড়া, পালপাড়া, নারায়নজন, মোখলেরবাজার, জেলেপাড়া, ইকরচালীপাড়াসহ এইদিকের লোকজনের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি এটি। বিকল্প দুটি রাস্তা থাকলেও একটি দিয়ে নদী পাড় হতে হয়। কিন্তু সেখানে কোন ব্রীজ নাই। আর অপর রাস্তাটি দিয়ে নদী না থাকলেও অন্তত ১৪ থেকে ১৫ কি. মি. বেশি ঘরতে হয়। তাই আমরা এই দিকের লোকজন খুব কষ্টে আছি। নারায়ণজন মোখলের বাজার এলাকার বৃদ্ধা নারী রোকসেনা বেওয়া বলেন, বাপজান, হামরা কিছুই চাই না। হামাক শুধু রাস্তাটা পাকা করি দেন। ইকরচালী পাড়ার মোখলেছুর রহমান বলেন, ভাইজান, টাকার দরকার খুব। বেটিটার কয়েকদিন থেকে অসুবিধা। ডাক্তার দেখা লাইগবে। কিন্তু তারাগঞ্জের হাট যে ধান বিক্রির জন্য নিয়া যাবো তারও উপায় নাই। রাস্তার এই অবস্থায় হামার এই পাশে রিক্সা ভ্যান তো দূরের কথা চলাচলের জন্য কোন জিনিসই পাওয়া যায়ছে না। এই অবস্থায় কেমন করি ধান নিয়া হাট যামো। তাই খুব বিপদের মধ্যে আছি।
হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান হারুনÑঅর-রশিদ বাবুল বলেন, তারাগঞ্জ উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে আমার ইউনিয়নটিই আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড়। আমার ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডের অন্তত ১৭ থেকে ১৮ হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এটাই তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা। রাস্তাটির এই বেহাল দশায় ওইসব লোকজন অত্যন্ত কষ্টকর অবস্থায় পড়েছে। রাস্তাটি পাকা করা হলে এলাকার মানুষের যাতায়াতে কোন সমস্যা থাকতো না এবং এলাকাগুলোরও অনেক উন্নয়ন হতো।
উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা আহমেদ হায়দার জামান জানান, রাস্তাটির ১ কি. মি পাকা হয়েছে। বাকী রাস্তাটিও তালিকায় আছে। আশা করি এই অর্থ বছরের বাজেটেই বাকী রাস্তাটি পাকা করনের কাজ শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটির এ অবস্থার কথা আমার জানা ছিল না। এই মাত্রই আমি শুনলাম। ইঞ্জিনিয়ার এবং উপজেলা চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলে দেখবো কি করা যায়।
উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন জানান, রাস্তাটি এমপি মহোদয়ের সুপারিশক্রমে ২ কি. মি পাকা করার বাজেট হয়েছে। আশা রাখি বর্ষা শেষ হলেই কাজ শুরু করা যাবে।
এ বিষয়ে রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, রাস্তাটির ২ কি. মি বরাদ্দ হয়েছে।

প্রত্যেকটি গ্রামের প্রতিটি রাস্তাই পর্যায়ক্রমে পাকা করা হবে। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা তো ঘোষণা দিয়েছেনই “গ্রাম হবে শহর”। আমি খুব চেষ্টা করছি তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি গ্রামের রাস্তাগুলো পাকাকরণ করার।

print

LEAVE A REPLY