৮’ই জুলাই প্রয়াত রাজা’র জন্মদিন”

৮’ই জুলাই প্রয়াত রাজা’র জন্মদিন”

0
SHARE
সংবাদ:
বাংলাদেশ বেতার ঢাকা। রাজধানি থেকে ৪৬০ কিলোমিটার দূরে চিলমারীর বন্দর (রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা)। রেডিও আর সাদাকালো টিভির সময়।
কাঁচা মাটির উঠান। তখনো ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আসে নি, আমাদের বাড়িতেও ছিল না। মিটিমিটি কুপি জলা রাতের গল্প। উঠোন ভর্তি মানুষের ঢল।
বেশীর ভাগ সময় একটা নারী কন্ঠ ভেসে আসত, এখন ভাওয়াইয়া পরিবেশন করবেন শিল্পী “সফিউল আলম রাজা”। পুরো পরিবেশটা পাল্টে যেত। পর পর তিনটা গান। খুব স্পষ্ট নাহোক, একেবারে অস্পষ্টও নয়, রেডিওর শোঁ শোঁ শব্দে শেষ হত বাংলাদেশ বেতার ঢাকা’র আঞ্চলিক গানের আয়োজন।
আমার নানুমনি প্রচুর পান খেতেন, মাসের ঐ একদিন যেনো ঈদের দিনের মতই ছিল, দূর দূরান্ত থেকে আসা নানা বয়সের মানুষজন গানে গানে পানে চুনে মুখ লাল করে ফেলতেন।
তখনকার কথা। যোগাযোগের মাধ্যম বলতে চিঠি আর ল্যান্ডফোন। পরিবারের সবাই সিরিয়াল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম টেলিফোন অফিসে, এক এক করে সবাই কথা বলতাম মামার সাথে (টেলিফোনে)। যেদিন শুনলাম মামা বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী হয়েছেন, আনন্দ আর দেখে কে? যদিও তালিকাভূক্ত ব্যাপারটা তখন বুঝতাম না। তবে উল্লাসটা এখনো বুঝি।
আজ মামার নামডাক অনেকদূর। ভাওয়াইয়া নিয়ে দেশে বিদেশে সমানতালে আছেন তিনি। খুব গর্ব হয়, অহংবোধ হয়।
৪৬০ কিলোমিটার (চিলমারী থেকে ঢাকার দূরুত্ব) পেরিয়ে রাজা এখন বিশ্বব্যাপি।
আজ ৮’ই জুলাই মামার (সফিউল আলম রাজা’র) জন্মদিন, শুভ জন্মদিন মামা।
উল্লেখ্য, “সফিউল আলম রাজা” গত ১৭ মার্চ ২০১৯ এ, অজস্র ভক্তকূল,  শুভানুধ্যায়ী এবং পরিবার পরিজনকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হন। তিনি ‘ভাওয়াইয়া গানের দল’ ও ‘ভাওয়াইয়া স্কুলে’র পরিচালক এবং ‘কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমী’র চেয়ারম্যান। তিনি ভাওয়াইয়া’র প্রচার-প্রসার ও তরুণ-প্রজন্মকে শেকড়মুখী করতে নিবেদিত প্রাণে কাজ করে গেছেন।
শিল্পী সফিউল আলম রাজা পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। দীর্ঘ ২৪ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে দৈনিক যুগান্তরে সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে ১৪ বছরের বেশি সময় কাজ করেছেন। ছিলেন প্রিয়.কম-এর চিফ রিপোর্টার হিসেবেও ।
পেশাগত জীবনেও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন, পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননাও। তিনি সাংবাদিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরস্কার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার, ডেমোক্রিসি ওয়াচ হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড, ইউনেস্কো ক্লাব এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড সহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। নিজ জন্মস্থান চিলমারীর বন্দরে ঠিক শান্তি নিকেতনের আদলে একটি ভাওয়াইয়া ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখতেন রাজা। যেখানে নিয়মিত ভাওয়াইয়ার চর্চা ও গবেষনা হবে। থাকবে ভাওয়াইয়া মিউজিয়াম।
আপাতত রাজা’র অসম্পন্ন স্বপ্নগুলো পূরণের অপেক্ষায়…
লিখেছেন-
নির্মাতা ও কবি
‘প্রিন্স রোমান পিকিউ’
(সফিউল আলম রাজার আপন ভাগিনা)
print