চরম দুর্ভোগে পঞ্চগড়ের সাধারন মানুষ

চরম দুর্ভোগে পঞ্চগড়ের সাধারন মানুষ

0
SHARE

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

গ্রীষ্মের খরতাপে পুড়ছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। আজ শুক্রবার বিকেল তিনটায় পঞ্চগড়ে সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ।

বৃহষ্পতিবার (১৩ জুন) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরম আর দাবদাহে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

ক’দিন ধরে টানা গরমের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রিকশা, ভানচালক আর খেটে খাওয়া মানুষ। দাবদাহ থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের ছাতা নিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে দেখা গেছে।kuri

গরমের কারণে আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নানা রোগে আক্রান্তদের ভর্তি হতে দেখা গেছে। বেশী ভাগেই শিশু।দিনে শহরের রাস্তাঘাট ও হাঁট বাজারে মানুষজনের চলাচল কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যমতে, কয়েক দিন ধরে জেলায় সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে তাপমাত্রা বিরাজ করছে।

একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের লো ভোল্টেজ আর লোড-শেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নাভিশ্বাস অবস্থা। বৃষ্টির জন্য শুক্রবার জুমার নামাজে বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে।

জেলা শহরের রামের ডাংগা মহল্লার ভাংরি ব্যবসায়ী হানিফ মোল্লা বলেন, ‘এমন তীব্র গরম এর আগে বোঝা যায়নি। রোদের কারণে কোথাও শান্তি পাওয়া যাচ্ছে না। আবার বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অবস্থা আরও খারাপ। বৃষ্টি হলে হয়তো গরম কিছুটা কমবে।’

স্থানীয় কুলি শ্রমিক মো. বুলু বলেন, ‘আমরা গাড়ি থেকে মালামাল উঠানামার কাজ করি। কিন্তু গরমের জন্য কোনো কাজ করতে পারছি না। অতিরিক্ত ঘামে অবস্থা কাহিল। অল্প কাজ করলেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছি।’po

গরমের কারণে নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা। প্রতিদিন হাসপাতালে রোগীদের ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে। আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. মনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘তীব্র গরমে নানা রোগবালাই দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু এবং বেশি বয়স্কদের হজমজনিত পেটের সমস্যা, ফুটপয়জনিং, বমিভাব দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে যে কেউ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এজন্য শিশুসহ সকলকে নরম অথবা তরল খাবার, খাবার স্যালাইন এবং লেবু ও চিনি মিশিয়ে শরবত খেতে হবে। এ সময় মৌসুমি ফল বিশেষ উপকারী।’

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিন ধরে এখানে সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে তাপমাত্রা অবস্থান করছে গঞ্চগড়ে।’

print

LEAVE A REPLY