রংপুরের বাজারে উঠছে হাড়িভাঙ্গা,দাম চড়া

রংপুরের বাজারে উঠছে হাড়িভাঙ্গা,দাম চড়া

SHARE

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর:

রংপুরের সুমিষ্টখ্যাত জনপ্রিয় হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে আসতে শুরু করেছে। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে গাছ থেকে আশঁহীন এই আম পাড়ার কথা থাকলেও অনেক চাষি আগাম আম পাড়তে শুরু করেছেন। এ কারণে রংপুরের হাটে বাজারে বসেছে হাড়িভাঙ্গা আমের বিক্রেতারা। তবে মৌসুমের শুরুতেই বেশি দামে হাড়িভাঙ্গার স্বাদ নিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর মহানগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আম বিক্রেতাদের দেখা গেছে। হাড়িভাঙ্গার পাশাপাশি ফজলি, সাদা ল্যাংড়া, কালো ল্যাংড়া, মিশ্রিভোগ, আম্রপালিসহ বেশ কিছু জাতের আম উঠেছে পাইকারি বাজারে।
জেলার মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা বেশির ভাগ আম ব্যবসায়ী এখানে পাইকারি দরে আম বিক্রি করেন। রাস্তার দুই পাশে তারা আম ভর্তি ঝুড়ির পসরা সাজিয়ে বসে ক্রেতাদের ডাকছেন।Rangpur p-1
আম বিক্রেতা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘এবার আবহাওয়া অনুক‚লে না থাকায় আমের উৎপাদন কম হয়েছে। কিছু কিছু বাগানে আমের মধ্যে পচনও ধরেছে। এ কারণে অনেকেই আগাম আম পাড়া শুরু করেছে।’
সিরাজুলের ভাষ্য মতে, ‘উৎপাদন কম হওয়াতে এবার আমের দাম একটু বেশি হবে। এখন বাজারে প্রতি মণ হাড়িভাঙ্গা আম তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’
এদিকে, রংপুর সিটি বাজারের ফল ব্যবসায়ী ডেমি বলেন, ‘সাধারণত জুনের শেষ ভাগে হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু এবার অত্যধিক গরমের কারণে এক সপ্তাহ আগে হাটে বাজারে আম উঠেছে। আর কিছুদিন পর পুরোদমে বাজারে হাড়িভাঙ্গা আম আসতে শুরু হলে দাম কমে আসবে।’
তিনি জানান, ‘বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা হাড়িভাঙ্গা আম ৮০ থেকে ১০০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি পাকা ও সাইজে বড় আম ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন।’
আম কিনে বাসায় ফেরার পথে রবিউল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘অপোয় ছিলাম কখন হাড়িভাঙ্গা বাজারে আসবে। এখন কিনতে পেরে ভালো লাগছে। তবে মৌসুমের শুরুতে বলেই বিক্রেতারা বেশি দাম নিচ্ছেন।’
রংপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সরোয়ারুল হক জানান, ‘এ বছর রংপুর জেলায় তিন হাজার পাঁচ হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে হাড়িভাঙ্গার ফলন হয়েছে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর। গত বছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল ৯ দশমিক ৪ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে শুধু হাড়িভাঙ্গার উৎপাদন হতে পারে ১৫ হাজার মেট্রিক টন।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত মাসের ঝড় ও বাতাসে আমের কিছুটা তি হলেও মোটামুটি ভালো ফলন হয়েছে। এবার হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা করতে পারবে এ জেলার আম চাষিরা।’

print