বর্ষাকে স্বাগত জানাতে ভিন্ন আয়োজন

বর্ষাকে স্বাগত জানাতে ভিন্ন আয়োজন

SHARE

নিউজ  ডেস্কঃ

আমাদের দেশে পয়লা বৈশাখ এলেই সবার একসাথে মনে পড়ে যায় পান্তাভাতের। সাথে ইলিশ না হলে তো চলেই না।

পান্তা-ইলিশ যেন একটা ঐতিহ্য! অথচ এই পান্তা খেয়ে চাষী-কৃষকেরা মাঠে নেমে পড়েন। তাদের শক্তির যোগান আসে পান্তা থেকে। আর আমরা অপেক্ষা করি পয়লা বৈশাখের জন্য। অথচ সে সময় ইলিশ ডিম পারে।

পান্তা ইলিশ খাওয়া মানে ইলিশের বাড়-বাড়ন্ত কমিয়ে দেয়া কিংবা ইলিশের কমে যাওয়ার কারণ হলো জাটকা আহরণ। বড় হতে না হতেই জেলেরা পাঠিয়ে দেন সেগুলো ঢাকায়, আর আমরা জাটকা-পান্তা খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে মনে মনে বলি আহা ঐতিহ্য পালন করলাম।

কিন্তু আমাদের পাশের দেশের বাঙালিদের দেখা গেল পান্তা নিয়ে অন্যরকম চিন্তা। পান্তা ভাতের সঙ্গে গন্ধরাজ লেবু, কাঁচা মরিচ, শুকনো মরিচ ভাঁজা, আলুর চোখা। রয়েছে মাছের ডিমের বড়া, ডালের বড়া, পোস্ত বড়া, চুনোমাছ ভাজা, চচ্চড়ি, কাতলা মাছের কালিয়া, ইলিশ মাছের ঝাল।

শেষ পাতে চাটনি, পাপড়। এখানেই শেষ নয়, যাওয়ার আগে হিমসাগর আম, কাঁঠাল এবং আইসক্রিম।

বর্ষার আহ্বানে এভাবেই আয়োজন করা হয়েছিল পান্তা উৎসবের। রবিবার বর্ষাকে স্বাগত জানাতে পশ্চিমবঙ্গের চুঁচুড়া কারবালা মোড়ে আরোগ্য–র এই উদ্যোগে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রায় ৫০০ মানুষ। প্রখর রোদের তেজ। প্রচণ্ড গরম। হাঁসফাঁস করছে সবাই। মাঝেমধ্যে মেঘের দেখা মিললেও, বৃষ্টি নেই। একটু স্বস্তি পেতে প্রতি বছরের মতো এ বছরেও আয়োজন করা হয়েছে পান্তা উৎসবের।

আয়োজকদের একজন ইন্দ্রজিৎ দত্ত জানিয়েছেন, গরমে যখন মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ঠিক তখনই গ্রীষ্মকে বিদায় জানিয়ে বর্ষাকে এভাবেই স্বাগত জানানো হয়। অন্যান্য বছরের মতো পান্তা উৎসবের পরই বর্ষার দেখা মিলবে এই বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

print