গাইবান্ধায় আদিবাসী, নারী ও প্রতিবন্ধী ইস্যুতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা

গাইবান্ধায় আদিবাসী, নারী ও প্রতিবন্ধী ইস্যুতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা

SHARE

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
আদিবাসী, নারী ও প্রতিবন্ধী ইস্যুতে দুই দিনব্যাপী বিতর্ক প্রতিযোগিতা বৃহস্পতিবার বিকেলে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের মাহমুদবাগ ইসলামিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় চত্ত¡রে শেষ হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অবলম্বন এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে ইউএনডিপি-হিউম্যান রাইটস্ প্রোগ্রাম।
গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা, কাটাবাড়ী, কামদিয়া, গুমানিগঞ্জ, শাখাহার ও রাজাহার ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মোতালিব নগর উচ্চ বিদ্যালয়, কামদিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কাচেরচড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ আদর্শ নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শাহজাহান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বৈরাগীরহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও মাহমুদবাগ ইসলামিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে।

এতে চ্যাম্পিয়ন হয় মাহমুদবাগ ইসলামিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রানার্সআপ হয় কামদিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। পরে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
আইনের সংষ্কারই পারে আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে, আদিবাসীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আলাদা বাজেটই একমাত্র উপায়, পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতাই নারীর ক্ষমতায়নের প্রধান অন্তরায়, আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করতে, অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়, প্রতিবন্ধীদের সেবা সুযোগ নয় অধিকার, সরকারের সদিচ্ছাই প্রতিবন্ধীদের সম্পদে পরিণত করতে পারে, বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙিই পারে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এই আটটি বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে শতাধীক আদিবাসী ও বাঙালি শিক্ষার্থী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের উর্দ্ধে উঠে অসাম্প্রদায়িক, সম্প্রীতি ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ গ্রহণ করে। এই শপথ বাক্য পাঠ করান মানবাধিকার কর্মী অঞ্জলী রানী দেবী।

 

মাহমুদবাগ ইসলামিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জোবায়ের হাসান মো. শফিক মাহমুদ গোলাপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় আম্পায়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওয়াজিউর রহমান র‌্যাফেল, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, কৃষিবিদ সাদেকুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী অঞ্জলী রানী দেবী, অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, প্রজেক্ট কো-অডিনেটর সৃজল তিগ্যা, স্কুল বির্তক প্রতিযোগিতার সমন্বয়কারী রুমিলা হেমব্রম, মাহমুদ বাগ ইসলামিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ, সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন হায়দার, কাচের ছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, আদিবাসী যুব নেতা বৃটিশ সরেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এই শপথ অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয়ের মধ্যদিয়ে নারী, আদিবাসী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সংবেদনশীল হওয়ার মানসিকতা তৈরি হবে। শুধুমাত্র চাকরী, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য শিক্ষা নয়, শিক্ষার মধ্য দিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মানবিক হতে হবে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতে হবে। সংবিধান ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, অন্যায়, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদের সাথে জড়িত হওয়া ও প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।

মানুষে মানুষে যে কোন ভেদাভেদ সৃষ্টির বিপক্ষে প্রতিবাদী ভূমিকা রাখতে হবে। নারী, শিশু, আদিবাসী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধীসহ সকল মানুষকে ভালবাসতে হবে, কারও প্রতি কোন খারাপ আচরণ করা যাবে না। অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রায় যথাযথ ভূমিকা রাখার আহবান জানানো হয়। শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করে আদিবাসী-বাঙালি শিক্ষার্থীরা।

print