মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২   আষাঢ় ১৩ ১৪২৯   ২৮ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
চাকরির একমাত্র বিকল্প শিক্ষিত বেকারদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা সোমবার থেকে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ ৯০ মিনিটের নদীপথ পার ৬ মিনিটে বাংলাদেশ আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে : প্রধানমন্ত্রী দ্বার খুলল স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পদ্মা সেতু উদ্বোধন: মানুষের ঢল
২১

কমছে তিস্তা নদীর পানি, কাটছে না ভাঙ্গন আতঙ্ক

(জামান মৃধা নীলফামারী প্রতিনিধি):

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২২  

নীলফামারী ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর পানি চার-পাঁচদিন ধরে উঠা নামার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। এখন তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে। বন্যায় আক্রান্ত বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো ফিরতে শুরু করেছে বসতভিটায়। তবে তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন আতঙ্ক! 

 

 লালমনিরহাট হাতীবান্ধা উপজেলায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা নদী ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা গত ২০/৬/২২ইং তারিখ সন্ধ্যায় পানির প্রবাহ ছিলো ৫২.৯২ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপরে। স্বাভাবিক ভাবে পানির প্রবাহ ৫২.৬০ সেন্টিমিটার। 

গত ২০ শে জুন ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে নীলফামারী ডিমলা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার। সে পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে ২১ জুন রাত পর্যন্ত।

২২ জুন সকাল থেকে দফায় দফায় পানি কমতে শুরু করলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়। ফলে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করা পরিবারগুলো ফিরতে শুরু করে বসত ভিটায়। তবে পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকায়।

 

ডালিয়া পাউবো অফিস সূত্রমতে, গত ১২ই জুন থেকে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার নিচে বাড়া-কমা করছিল। গত ১৭ই জুন সকাল ৬ টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।২০শে জুন বিকাল ৩ টায় নদীর পানি ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত এলাকা পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ির একাংশ, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি এবং জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও শৌলমাড়ি ইউনিয়নের ২০ গ্রামের কয়েক হাজার পরিবারের বসতবাড়িতে পানি ওঠে।

 

খালিশা চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান জানান তিস্তা নদীতে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙ্গন তীব্র হচ্ছে ইতিমধ্যে ছোটখাতা ১ নং ওয়ার্ডের আলী আকবর, আব্দুল কাদের, সাইদুল ইসলাম সহ একাধিক বসতভিটা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। তারা বর্তমানে ছোটখাতা গাইড বাঁধের উপর খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

 

টেপাখরিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, এ বন্যায় তেলির বাজার সংলগ্ন মসজিদ পাড়া (স্বপন বাঁধ) এর প্রায় ৬০ মিটার জায়গা তিস্তা নদীর বন্যার পানিতে ভেঙ্গে যায়। আর এতে বাঁধের ভিতরে থাকা দুই শতাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে কোমর পানি উঠে। তলিয়ে যায় ফসলি জমি ও মাছের ঘের। ক্ষতিগ্রস্ত হয় উড়তি আমন  ধানের বীজতলা। শতাধিক পরিবার আশ্রয় নেয় উচু গাইড বাঁধে। বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি কমায়, গাইড বাঁধে আশ্রয় গ্রহণ করা মানুষজন বাড়িতে ফেরা শুরু করলেও ভুগছে ভাঙ্গন আতঙ্কে।

 

 ইতিমধ্যে গত রবিবার (১৯শে জুন) জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা   বেলায়েত হোসেন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল করিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইবনুল আবেদীন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান তেলির বাজার সংলগ্ন মসজিদ পাড়া (স্বপন বাঁধ)''র ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙ্গা বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন।

 

এছাড়াও গত শুক্রবার (২৪শে জুন) সকালে নীলফামারী-১ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন সরকার (এমপি) তিস্তা নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানান পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান। তিনি বলেন, বন্যায় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করা পরিবারগুলো শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত নিজ বাড়িতে ফিরে গেলেও তিস্তা নদীর ভাঙ্গন আতঙ্কে ভুগছেন তারা। চলতি বন্যায় পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৫ শত পরিবার। স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সাহায্য সহযোগিতার আশ্বস্ত করেছেন। 

 

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, বর্তমানে তিস্তা নদীর গতি স্বাভাবিক অবস্হায় রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য ব্যারাজের সব'কটি জলকপাট (৪৪টি গেট) খুলে রাখা হয়েছে।

 

 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, তিস্তা নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৭ শত ৫০ পরিবারের মাঝে ২৫ মেট্রিক টন চাল এবং ৭ শত প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর