শীত বস্ত্র বিতরণে দায়িত্ব সব সময় সরকারের, বিরোধী দলের নয়-মির্জা ফখরুল

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী:
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শীত বস্ত্র বিতরণে দায়িত্ব সরকারের বিরোধী দলের নয়। উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীর সৈয়দপুরে গত ১১ জানুয়ারী শীতবস্ত্র বিতরনে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন বিএনপি সাধারন মানুষের পাশে নেই।
তারা শীতবস্ত্র বিতরনে ব্যর্থ। এ কথার সুত্র ধরে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন আমি এখন কাদের সাহেবেরে কোন কথাকেই পাত্তা দেই না।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবির দরকার হয় মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, আমরা জনগণের পাশে থাকি সেই জন্য জনগণ আমাদের চায় এবং আমার বার বার ক্ষমতায় আসি। আমাদের নির্বাচন করতে র‌্যাব,পুলিশ বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দরকার হয় না। আমাদের দরকার হয় জনগণের আর জনগণ মাধ্যমেই আমরা জয়ী হয়ে সরকার গঠন করি। আর আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে থাকে না বলেই নির্বাচন করতে তাদের দরকার হয় র‌্যাব-পুলিশ, বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নীলফামারী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপির দ্বি বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা জানি এই সরকার একটি ফ্যাসিবাদী সরকার। আমরা জানি তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা জানি তাঁরা র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে অতীতের নির্বাচনের ফলাফল নিজের করেছে তেমনি এবারের ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ফলাফলও নিজেদের করতে প্রভাব বিস্তার করবে। তাই বলে কি বিএনপি মূখ বুজে বসে থাকবে? না বসে থাকবে না। আমরা নির্বাচনটাকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি।
সংবাদ মাধ্যমকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭২ সালের আওয়ামী লীগ আইনজারী করে গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছিল। তখন সাংবাদিকরা  চাইলেই সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে পারতো না। এখনও সাংবাদিকরা আছেন কিন্তু তাদের কোন ক্ষমতাই নেই। কারণ বর্তমান সরকার ঠিক ভিন্ন ভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সাংবাদিকরা চাইলেও সব কিছু বলতেও পারবে না, লিখতেও পারবেনা এমনকি প্রকৃত সত্য প্রকাশ করতেও পারে না। লিখতে কিংবা বলতে গেলেই তাদের উপর ভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সরকার কিংবা তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে সত্য সংবাদ পরিবেশন এবং প্রকাশ করলেই সাংবাদিকসহ ওই গণমাধ্যমকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি করছে এই সরকার। তবে সাংবাদিকরা এখন চাইলেও প্রকৃত সত্য প্রকাশ করতে পারেননা।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সু কৌশলে দেশটাকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করতে যাচ্ছে। বিচার বিভাগ করায়ত্ব করেছে, নির্বাচন কমিশন করায়ত্ব করেছে, প্রশাসন করায়ত্ব করেছে, সব তাদের নিজের লোক। আর যদি সেখানে বিএনপির গন্ধ পায় তাহলে তার চাকুরী নাই, প্রমোশন নাই। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য, তার ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য, তার বেচে থাকার অধিকার রক্ষার জন্য তাকে উঠে দাড়াতে হবে। এবং মানুষ উঠে দাড়াচ্ছে।
নেতাকর্মীদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কখনও মনে করবেন না যে আপনারা পরাজিত হয়ে গেছেন, হতাশ হয়েছেন। আন্দোলনে উল্থান পতন থাকবে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য থাকবে একটাই, যে নেত্রী আমাদের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন, এখনও অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠে সংগ্রাম করছেন। অসুস্থ্য অবস্থায় তিনি যদি পারেন, আমরা পারবো না কেন? তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এসময় তিনি দলকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিনত করতে গ্রামে গ্রামে সংগঠন তৈরী করার পরামর্শ দেন। এবং অংগ সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে জেলা নেতৃবৃন্দকে তাদের প্রতি খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন।
জেলা বিএনপির আহবায়ক আলমগীর সরকার সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহুরুল আলমের সঞ্চালনায় সম্মেলনে অন্যন্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রাহেদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কাজী আক্তারুজ্জামান, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক মগ্নি মাসুদুল আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আল মাসুদ চৌধুরী প্রমুখ।
প্রথম অধিবেশন শেষে বিকালে দ্বিতীয় অধিবেশনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করেন। তিনি আলমগীর সরকারকে সভাপতি ও জহুরুল আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষনা করেন। এবং অতিদ্রæত পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম বলেন, এর আগে জেলা কিবএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষনা করা হয়। নির্ধারিত সময়ে একাধিক প্রার্থী না থাকায় দুই জনের নাম ঘোষানা করা হয়েছে। আমরা দ্রæত ১৫১ সদস্যের পুর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে প্রেরণ করবো। জাহেদুল ইসলাম
নীলফামারী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *