মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯   ১৭ মুহররম ১৪৪৪

রংপুরে মহা সড়কে আলু ঢেলে চাষিদের প্রতিবাদ

প্রকাশিত : ০৪:০৬ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০২২ সোমবার

রংপুরে নায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগ এনে সড়কে আলু ঢেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলুচাষিরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিভাগীয় আলু ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরাও।

মহানগরীর সাতমাথা এলাকায় সড়কে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ‘দাম কম’ পাওয়ার প্রতিবাদ জানান তারা।

প্রতিবাদে অংশ নেয়া চাষিরা জানান, বর্তমানে বাজারে এক কাপ চা বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকায়। সেখানে এক কেজি আলু বিক্রি করে তারা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না। বাজার মন্দা থাকায় জমিতেই রয়ে গেছে অনেক আলু।


নগরমীরগঞ্জ এলাকার আলুচাষি শহিদ মিয়া বলেন, ‘আমি ১০ একর জমিতে আলুর আবাদ করেছি। বিক্রি না করে সেগুলো স্টোরে রেখেছি। এখন আলুর নায্য দাম আমরা পাচ্ছি না। এতে আমাদের অনেক লোকসান হবে। খরচ চালাব কীভাবে?’

নব্দিগঞ্জ এলাকার চাষি বাহার আলী জানান, এখন বাজারে পাইকারিভাবে আলুর কেজি ৮ থেকে সাড়ে ৮ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১৩ থেকে ১৪ টাকা। অথচ উৎপাদন খরচ হয়েছে কেজিপ্রতি ১৫ টাকা। পানির দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। আলু রপ্তানি না করলে চাষিদের লোকসান হবে। কৃষকরা মাঠে মারা যাবেন।

বিশ্বজিৎ নামে এক চাষি বলেন, ‘বছরে আলুর উৎপাদন ও লেবার খরচ দুটোই বেশি। দেশের এ সম্পদ পচে নষ্ট হয়ে যাবে সেটি হতে পারে না। আমরা চাই, এই আলু যেন দেশের বাইরে যায়।’

রংপুর বিভাগীয় আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘জেলায় ৮০ লাখের বেশি আলুর বস্তা স্টোরে পড়ে আছে। এ ছাড়া মানুষের বাড়ি বাড়ি আলু আছে, মাচ্যাং পদ্ধতিতে আলু রেখেছেন অনেক কৃষক। তাই, সরকারের কাছে দাবি, আলু রপ্তানি করা হোক। না হলে আমাদের অনেক লোকসান হবে।’

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘এ বছর জেলায় ৫২ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯২ টন, যা রেকর্ড।’


রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান  বলেন, ‘আমাদের অনেক আলু অলরেডি রপ্তানি করা হয়েছে, আরও করার পরিকল্পনা আছে। এ জন্য কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। চাষিরা যেন আলুর ন্যায্যমূল্য পান সে বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।’