মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯   ১৭ মুহররম ১৪৪৪

লালমনিরহাটে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল চেয়ে ডিসিকে আবেদন

প্রকাশিত : ০৭:৪৮ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২২ রোববার

লালমনিরহাটের এক পরীক্ষার্থী ভুলে ভরা প্রশ্নে নেয়া প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন কামরুন নাহার নামে এক চাকুরী প্রত্যাশি।

রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপুর দেরটায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ডিজিটাল সেন্টারে অনলাইনে আবেদনটি দায়ের করেন তিনি। এর আগে শুক্রবার (২২ এপ্রিল) লালমনিরহাটে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

আবেদনকারী কামরুন নাহার লালমনিরহাট পৌরসভার খোচাবাড়ি এলাকার আখতারুল আলমের মেয়ে। ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর করা চাকুরী প্রত্যাশি।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার প্রবল ইচ্ছায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুযোগ নিতে অন্যদের মত আবেদন করেন কামরুন নাহার। ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে সরকারী চাকুরীর পিছনেও ছুটছেন তিনি। অসুস্থ বাবা ও ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে চাকুরীর ভিষন প্রয়োজন হলেও করোনার লকডাউনে তা মেলাতে পারেন নি তিনি। এ দিকে সরকারী চাকুরীর বয়সও শেষ দিকে কামরুন নাহারের। এরই মধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দিন ঘোষনা করা হয়।

কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশুনা চালিয়ে লালমনিরহাট সরকারী কলেজ কেন্দ্রের ২১৬ নং কক্ষে পরীক্ষা দেন কামরুন নাহার। তার রোল নম্বর ৪১১২৬৩২ ; প্রশ্নের সেট ছিল সুরমা। পরীক্ষার প্রশ্ন হাতে নিয়ে বিভিন্ন ভুল দেখতে পান তিনি। তাৎক্ষণিক হল পরিদর্শককে অবগত করে সহায়তা চান। কিন্তু তারা কোন সমাধান দিতে পারেননি। অবশেষে ভুলে ভরা প্রশ্নের উত্তর পত্র জমা দিয়ে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরেন কামরুন নাহার।

কামরুন নাহার বলেন, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ৮০ টির স্থলে ৮৩ টি প্রশ্ন ছিল। ৪৪-৪৬ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নগুলো প্রশ্নপত্রের উভয় পাশ্বেই রয়েছে। প্রথম পৃষ্ঠার প্রশ্নের সাথে পরের পৃষ্ঠায় বেশ কয়েকটি প্রশ্নের মিল রয়েছে। এমন ভুলে ভরা প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে বের হয়েছি। আমার মত অনেকেই পরীক্ষা শেষে এটা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। পরবর্তিতে জানতে পারি অন্য কেন্দ্রে সুরমা সেটে কয়েকজনের কাছে এমন ভুলের প্রশ্ন ছিল না। তারা নির্ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন। তাই, কোন প্রশ্নে উত্তর পত্র মুল্যায়ন করা হবে? , এটা নিয়ে বেশ হতাশায় পড়ে পরীক্ষা বাতিল ও পুনপরীক্ষার দাবিতে নাগরিক অধিকার নিয়ে এ আবেদন করেছি। আশা করি সঠিক সিদ্ধান্ত আসবে।

জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছি। এতে কাজ না হলে প্রয়োজনে একাই আন্দোলন করে নাগরিক অধিকার আদায় করব। পরিবারকে বাঁচাতে তার চাকুরীর খুব প্রয়োজন বলেও দাবি করেন কামরুন নাহার।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা জানালে পরীক্ষার দিনই অধিদফতরকে অবগত করা হয়েছে। লিখিত আবেদনটি পেয়েছি, সেটিও অধিদফরকে অবগত করা হয়েছে। অধিদফতরই এ বিষয়ে পরবর্তি সিদ্ধান্ত নিবেন।