সোমবার   ১৫ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ৩০ ১৪২৯   ১৭ মুহররম ১৪৪৪

পুলিশ জাদুঘরটি যে কেউ দেখলে মনি মুক্তা খুঁজে পাবে

প্রকাশিত : ১১:২২ পিএম, ২২ জুন ২০২২ বুধবার

লালমনিরহাট জেলায় প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলে বাংলাদেশর প্রথম পুলিশ জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশ আইজিপি বলেন, পুলিশের এই জাদুঘরটি যে কেউ দেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দিলে এই মিউজিয়ামে অনেক অনেক মনি মুক্তা খুঁজে পাওয়া যাবে। এমন একটি জাদুঘরের উদ্যোগ এর জন্য লালমনিরহাট পুলিশ কে অভিনন্দন জানান। 

 

তিনি আরও বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যার্ত মানুষের সর্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন। এক সময় এলাকায় মঙ্গা ছিল কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে  এই এলাকায় মানুষের মঙ্গা মঙ্গা দূর হয়েছে। 

 

তিনি আরও বলেন, অনেক খরস্রোতা নদীর উপরে পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে একসময় ইতিহাসে জিওগ্রাফিতে স্থান পাবে। 

 

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ৫০ বছরে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি পতাকা পেয়েছি,দেশ পেয়েছি মানচিত্র পেয়েছি,স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি। দেশ স্বাধীনতার লক্ষ্যে ক্ষুধামুক্ত আত্মমর্যাদাশীল দেশ গঠন করেছেন। 

 

বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ যাদুঘর লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ৭কক্ষ বিশিষ্ট একটি প্রাচীন ভবন কে জাদুঘর হিসেবে নির্মিত করা হয়েছে। এখানে বৃটিশ আমল থেকে পুলিশের ক্রমবির্বতন,মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ বিষয়ে বিভিন্ন বিষয় সংযোজিত করা হয়েছে। ৭টি গ্যালারিতে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

 

 বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ডক্টর বেনজীর অহমেদ  বিপিএম (বার) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। 

 

আজ বুধবার (২২ জুন) দুপুরে লালমনিরহাট জেলায় বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করের বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. বেনজির আহম্মেদ

 

পরে জাদুঘরে রাখা পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। 

 

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি আবিদা সুলতানা বিপিএম, পিপিএম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভূইয়া, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য, রংপুর মেট্রোপলিন পুলিশের কমিশনার আব্দুল আলিম মাহমুদ সহ  লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,নীলফামারী,রংপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ। এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  জেলার  বিশিষ্ট ব্যক্তিগন উপস্থিত ছিলেন। 

 

ইতিমধ্যে এ জাদুঘরটি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার পুরাতন ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। জাদুঘর দেখতে আসা দর্শনার্থীদের আগমন ঘটলে এ এলাকায়  প্রসারিত হবে ব্যবসা বাণিজ্য, আলোকিত হবে মানুষজনের জীবনমান উন্নয়ন।

 

বুধবার বিকেল ৩টায়  তিনি বাংলাদেশের আলোচিত লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার তিনবিঘা করিডর পরিদর্শনে যান। 

 

জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলার ২৩তম পুলিশ সুপার হিসেবে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে যোগদান করেন আবিদা সুলতানা (বিপিএম, পিপিএম)। যোগদানের পর হাতীবান্ধা থানা পরিদর্শনে এসে থানা প্রাঙ্গণে থাকা পুরাতন ঐতিহ্যবাহী  এই ভবনটিকে বাংলাদেশের পুলিশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণের কাজে লাগানোর চিন্তা করেন তিনি। এ সংক্রান্তে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণে সহযোগিতা করেন লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার বি-সার্কেল তাপস সরকার, তৎকালীন হাতীবান্ধা থানা ওসি ওমর ফারুক ও তার বদলীর পর গত ২৬ আগষ্ট ২০২০ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওসি এরশাদুল আলম। এরপর রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বিপিএম এবং বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বেনজির আহমেদ বিপিএম(বার) সম্মতিক্রমে 'বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর, লালমনিরহাট' প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয় গত বছরের ৩১ জানুয়ারি। পরবর্তীতে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার নিবিড় তত্ত্বাবধানে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। 

জাদুঘরটিতে পুলিশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ সংগ্রহশালায় ব্রিটিশ পুলিশ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পুলিশ পর্যন্ত তাদের পোশাক, যুদ্ধ সরঞ্জাম, অস্ত্র, পুলিশের পদবী, রণকৌশল সম্পর্কে ধারণা পাবেন দর্শনার্থীরা। এছাড়াও পাশের একটি ভবনে শিশু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে আগত দর্শনার্থী ও তাদের সন্তানরা আনন্দ ও বিনোদন গ্রহণ করবেন। চলতি বছরের অক্টোবরে এ জাদুঘর ও শিশু কর্নারটি সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।