শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৬ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

ডিমলায় গরু ও খাসির মাংসে আগুন

জামান মৃধা, নীলফামারী থেকে:

প্রকাশিত : ০১:৫০ পিএম, ১০ মে ২০২২ মঙ্গলবার

মধ্যম আয়ের মানুষও এখন আর গরুর মাংস কেনার সাহস করছে না। অনেক পরিবার শুধু বাড়িতে অতিথি এলে নিরুপায় হয়ে গরুর মাংস কেনার সাহস দেখায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই মানুষগুলোর সাধ্যের মধ্যে আর থাকবে না গরুর মাংস।

অথচ দেশে প্রতিবছর বাড়ছে গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়ার উৎপাদন। তার পরও গরুর মাংসের দাম বাড়ছে। মাংস কিনতে নাভিশ্বাস ভোক্তাদের নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বেড়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম।

কেজি প্রতি গরু ১২৫-১৫০ ও খাসি ১০০-১২০ টাকা বেড়ে গরুর মাংসের দাম হয়েছে ৬২৫-৬৫০ টাকা ও খাসির মাংসের দাম ৮০০-৮৫০ টাকা। এছাড়াও দেশি মুগরি ৪৫০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩০০ টাকা কেজি ও বয়লার মুগরির দাম ১৮০ টাকা কেজি। দিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাভিস্বাস অবস্থা। অন্যদিকে বেড়েছে শাক-সবজি, মাছ, তেল, কাঁচা তরু তরকারীসহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম এছাড়া সয়াবিন তেলের দাম এক লাফে ৩৮ টাকা বেড়ে ২১০টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

 মঙ্গলবার (১০ই মে) ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায় এসব চিত্র। গরুর মাংস ৬২৫-৬৫০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ৮০০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও খোলা সোয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা ও বোতলের এক লিটার তেল বর্তমানে ২১০ টাকা এবং মশুর ডাল ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি দিনই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার কারণে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছে বিপাকে। বাড়ছে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা।

ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে জানা দেখা যায়, লাউ ৪০-৪৫ টাকা পিস, বেগুন ৪০-৪৫  টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ২৫-৩০ টাকা কেজি, করলা কেজি ৪০-৪৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা ও শসা ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাংস ও মাছ বাজারে ঘুরে দেখা যায়,  গরুর মাংস ৬২৫-৬৫০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ৮০০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট-বড় ইলিশ ৪৫০-৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, রুই মাছ ২৪০-২৬০ টাকা কেজি, মিরকা মাছ ১৭০ টাকা কেজি, টেংরা মাছ  ৫০০-৬০০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া মাছ ১৫০-১৭০ টাকা, জাপানী রুই মাছ ১৮০-২০০ টাকা, বাচা মাছ ১৫০-১৬০ টাকা, পাংগাস মাছ ১৪০-১৫০ টাকা কেজি, সিলভার কাপ ১২০-১৪০ টাকা, তিস্তা নদীর বৈরালি মাছ ৫০০-৬০০ টাকা কেজি, লাল ডিম হালিতে ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকা হালি, সাদা ডিম ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গয়াবাড়ী ইউনিয়ন শুটিবাড়ী বাজারের মাংস বিক্রেতা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, হাটে প্রতিটি গরুর দাম ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি দরে কিনতে হচ্ছে তাই মাংসের দাম একটু চড়া। 

বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষ বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হলে বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা অথবা সিন্ডিকেট করার সুযোগ থাকবে না।