ব্রেকিং:
ঘন কুয়া ও শৈত্য প্রবাহে লালমনিরহাটের জনজীবন স্থবির নেই ঢাকায় আসছে মেসির আর্জেন্টিনা

মঙ্গলবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩   মাঘ ২৫ ১৪২৯   ১৬ রজব ১৪৪৪

সর্বশেষ:
পাটগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামী পলাতক সরকারি খরচে সাত বছরে হজে গেছেন ১৯১৮ জন বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায় শীত আরও বাড়তে পারে বিয়েবাড়িতে চাঁদাবাজি: তৃতীয় লিঙ্গের চারজন কারাগারে
৬৯

আজ ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট  হানাদার মুক্ত দিবস

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২২  

আজ ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে লালমনিরহাট হানাদার মুক্ত হয়। ভারতীয় মিত্রবাহিনী বীরমুক্তিযোদ্ধারা লালমনিরহাট শহরকে পাক হানাদার মুক্ত করতে তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলে আক্রমণ পরিচালনা করে।

 

মিত্রবাহিনী ও বীরমুক্তিযোদ্ধাদের যৌথ আক্রমনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বিপর্যয়ের মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে পাক হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আলবদর, আলসাম্স ও তাদের দোসর অবাঙ্গালীরা দুটি স্পেশাল ট্রেন যোগে রংপুর ও সৈয়দপুরে পালিয়ে যায়। ফলে লালমনিরহাট জেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়।

 

এর আগে ৫ ডিসেম্বর’৭১ সন্ধ্যায় লালমনিরহাট রেলওয়ে রিক্সা স্টানে পাক হানাদার বাহিণী ও রাজাকারদের যোগ সাজসে গণহত্যা চালানো হয়। এসময় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী, বুদ্ধিজীবিসহ ৩ শত ৭৩ জন নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে পাক হানাদার বাহিনী। পরে গণহত্যায় নিহত লোকদের রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেয়া হয়। বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি গণকবর। দিবসটি উপলক্ষে লালমনিরহাট শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ।

 

লালমনিরহাট অঞ্চল ছিল ৬ নম্বর সেক্টরের অধীনে। দেশের অভ্যন্তরে থাকা একমাত্র ৬ নম্বর সেক্টরটি ছিল পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী হাসর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন এম, খাদেমুল বাশার। তার দক্ষ নেতৃত্বে ও সাহসী পদক্ষেপেই লালমনিরহাটে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেন মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী, স্বাধীনতার ৫১ বছর পেয়িয়ে গেলেও গণ কবর গুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অবহেলা অযত্নে পড়ে রয়েছে। আমরা চাই গণকবর গুলো সংস্কার করে সংরক্ষণ করা হোক। 

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আকমল হোসেন জাগো নিউজকে  বলেন, চারদিক থেকে মুক্তিবাহিনীরা লালমনিরহাট শহরের দিকে আসতে থাকে এর পর ৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় লালমনিরহাট শত্রু মুক্ত করে শহরে প্রবেশ করি। রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখি কয়লার চুলায়  রান্না করা ভাত, মাছ ডাল রেখে বিহারীরা ও পাক সেনারা রংপুরে পালিয়ে যায়। 

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে পুরাতন মুক্তিযোদ্ধার মূল্যায়ন কমে গেছে। দিনদিন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন কমে যাবে। 

 

লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে  বলেছেন, 

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট মুক্ত দিবস পালিত হবে। তিনি আরও বলেন,জেলা প্রশাসকের উদ্যাগে

আলোচনা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

 

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর