শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৬ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
উঁকি দিয়েছে চাঁদ, ঈদুল আজহা ১০ জুলাই তিস্তা ও ধরলার পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি,৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি বিপৎসীমার ওপরে ধরলা-দুধকুমারের পানি সৌদি আরবে ঈদুল আজহা ৯ জুলাই চাকরির একমাত্র বিকল্প শিক্ষিত বেকারদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা
১৭৫

কিছু কুসন্তানের কারণে মা দিবসের সৃষ্টি: ফেরদৌস

প্রকাশিত: ৯ মে ২০২২  

আজকাল দিবসের অভাব নেই। এ ব্যাপারে তাই কারও তেমন আগ্রহও দেখা যায় না। তবে কিছু দিবস এখনও নিজস্ব আবেদন বহন করে।এই দিনগুলো পালনেও সবার আগ্রহ দেখা যায়।

তেমনই হলো মা দিবস। সন্তানদের জন্য বিশেষ একটি দিন। মায়ের মমতা ও ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই প্রতিবছর পালন করা হয় দিনটি। এই দিনে মাকে আলাদাভাবে স্মরণ করা হয়। সকল অঙ্গনের মানুষই এটা করে থাকেন। আজ (৮ মে) সেই বিশেষ দিন। মা দিবস ও মাকে নিয়ে ঢাকাই সিনেমার নায়ক ফেরদৌস কথা বলেছেন ঢাকা মেইলের সঙ্গে।

ফেরদৌস বলেন, ‘মায়ের জন্য কেন আলাদা দিবস হবে? আমার কাছে মনে হয় প্রত্যেকদিন মা দিবস হওয়া উচিত। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দটি মা। মায়ের চেয়ে মধুর তো আর কিছু হতে পারে না। একটি সন্তানের পৃথিবীতে আসা, তার বেড়ে ওঠায় মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি।’  

এই অভিনেতা ধারণা করেন কিছু কুসন্তানের কারণে সৃষ্টি হয়েছে এই দিবসটির। সেই ধারণা থেকে তিনি বলেন, ‘আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই মায়ের প্রতি সন্তানদের অবহেলা খেয়াল করা যায়। বিশেষ করে বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে গেলে অনেক অবহেলিত মাকে দেখতে পাই। সন্তানেরা সেইসব মায়েদের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। তাদের দেখে খুব কষ্ট হয়। তখন মনে হয়, পৃথিবীতে এমন কুসন্তান প্রচুর আছে। তাদের কারণেই হয়ত মা দিবস সৃষ্টি হয়েছে। কেননা অন্তত এই একটা দিন যেন তারা মাকে স্মরণ করেন।’  

ফেরদৌস মা দিবস পালনের বিরোধী। নিজের সেই মত প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মা দিবসের বিরোধী। আমি মনে করি, মাকে ভালোবাসতে কোনো দিবস-রজনী লাগে না। সবসময়ই মাকে ভালোবাসা যায়। প্রতিমুহূর্তে ভালোবেসেও মায়ের ঋণ শোধ করা সম্ভব না। আমার কাছে মনে হয়, মা হওয়াটাই একটা গর্বের ব্যাপার। আজকের এই দিনে সমস্ত মায়েদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা।’

ফেরদৌস নিজেও এখন সন্তানের বাবা। তবে তিনি মনে করেন, বাবা কখনও মায়ের অভাব পূরণ করতে পারেন না।

এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মায়ের জায়গা বাবা কখনও পূরণ করতে পারেন না। তবে ছোটবেলায় মাকে জ্বালিয়েছি। এখন বাবা হয়ে কিছুটা হলেও সেই কষ্ট অনুভব করতে পারি। সন্তান লালন-পালন করা, তাকে বড় করে তোলা, তার সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করাটা খুব কঠিন কাজ। মা ও সন্তানের এই সম্পর্কটা অপার্থিব।’  

সন্তানের সঙ্গে পিতামাতার সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে নিজের একটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেমন আজ সকালের একটি ঘটনা বলি। গতরাতে আমার বেশকিছু কাজ ছিল। বাসায় ফিরতে দেরি হয়ে যায়। তেমন একটা ঘুমও হয়নি। মাত্র দুই তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েছি। তারপরও আজ সকালে উঠে আমার কন্যাকে স্কুলে দিয়ে এসেছি। ঘুমে কিছু চোখে দেখছিলাম না। তখন ভাবলাম, অন্য কেউ হলে আমি কখনও যেতাম না। শুধু নিজের সন্তান বলেই গিয়েছি। এটি একটি ছোট উদাহরণ। তারপরও এই ঘটনা দিয়ে বোঝা যায় সন্তানের জন্য কী না করা যায়।’  

ফেরদৌসের মা এখনও তাকে নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকেন। মায়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গতরাতে আমার শো ছিল। আমি বের হওয়ার সময় আম্মুকে খুব উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। সে বারবার জানতে চাচ্ছিল, কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি। আসলে মা বলেই এটা সম্ভব। এখনও রাতে ফিরতে দেরি হলে মা জেগে থেকেন। আমার জন্য চিন্তা করেন।’  

দিবসের গণ্ডিতে মাকে বাঁধা যায় না মানলেও তিনি স্বীকার করেন দিবসটির প্রয়োজন আছে। এমনটা উল্লেখ করে এই নায়ক বলেন, ‘ওই যে বললাম না, কিছু মা আছেন, সন্তানেরা যাদের আশ্রমে ফেলে আসে। ঠিকমতো দেখভাল করে না। ওই সন্তানদের জন্য এই দিবসটি প্রয়োজন। কেননা অন্তত এই একটা দিন হলেও তারা মায়ের কথা মনে করবে।’

এসময় এই নায়ক পৃথিবীর সব মায়ের সুস্থতা কামনা করেন। যেসব সন্তানেরা মায়ের ঠিকমতো খোঁজ নেন না তাদের বোধদয় হোক বলেও তিনি প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি মা দিবসের এই দিনটি মায়ের সঙ্গে কাটাবেন বলে জানান এই ঢালিউড তারকা।