ব্রেকিং:
বাংলাদেশকে ২৮৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিলো বিশ্বব্যাংক তেলের সংকট নেই, বলছেন পাম্প মালিকরা

সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ২৩ ১৪২৯   ১০ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
বাংলাদেশকে ২৮৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিলো বিশ্বব্যাংক ট্রেনের উপর প্রভাব,যাত্রীদের উপচেপড়া ভীর রংপুরে বাস সংকটে যাত্রী বেড়েছে ট্রেনে অসহনীয় কাঁচা মরিচ, খুচরায় কেজি ২৪০ তুরস্কে মূল্যস্ফীতি ২৪ বছরে সর্বোচ্চ, লিরার পতন অব্যাহত
১৬৮

তিস্তা ও ধরলার পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট।

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২২  

লালমনিরহাটে তিস্তা,সানিয়াজান ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিতহ হওয়ায় পর গত বুধবার রাত থেকে কমতে শুরু করেছে পানি। এতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙ্গন। পানিবন্দি পরিবারগুলোর দুর্ভোগ বেড়েছে।  শুকনো খাবার খেয়ে পরিবারগুলো রাত পার করেছেন। 

 

বৃহস্পতিবার (৩০জুন) সকাল ৯টায় লালমিনরহাটের হাতীবান্ধা তিস্তার দোয়ানী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সে. মি. নিচ দিয়ে প্রাবহিত হচ্ছে (স্বাভাবিক ৫২.৬০) যা বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

 

সকাল ৬ টায় ধরলার পানি শিমুলবাড়ি পয়েন্ট বিপৎসীমার ১২ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

ডালিয়া উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসফাউদৌলা  বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত রাত থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। 

 

এই বছরে তৃতীয় দফা বন্যায় অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। জেলার পাটগ্রাম,  হাতীবান্ধা,  কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার তিস্তা,সানিয়াজান ও ধরলা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। 

 

এদিকে তিস্তা,সানিয়াজান পানি কমতে শুরু করলেও ধরলার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী,দোয়ানী,ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গীমারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া,হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি,আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা,কালমাটি,পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর, খুনিয়াগাছ,কুলাঘাট, মোগলহাট, বড়বাড়ি,রাজপুর,গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর পানি প্রবেশ করে বানভাসি মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন। 

 

পরিবার গুলোর মাঝে খাদ্য ও নিরাপদ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। একে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পানিবন্দী এসব মানুষ। 

 

নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হয়ে পড়েছে। পশুপাখি ও গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন এসব বানভাসি মানুষ। গরু ছাগলের খাদ্য-সংকট সহ নিরাপদ স্থানে রাখতেও  ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।

 

এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের ১,২ ও নং ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।  হুমকির মুখে রয়েছে চর সিন্দুর্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিক। 

 

ফকির পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন,পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তা পায়নি। তবে ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা জমা দিয়েছি। 

 

সিন্দুর নাই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মফিজুর রহমান জানান,গত ১৫ দিন থেকে এই তিনটি ওয়ার্ডের প্রায় ১০০ জনের পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তারা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।  

 

লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ধরলার পানি বিপৎসীমার১২ সেন্টিমিটার  ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত রাত থেকে ধরলা ও তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর