শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৬ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
উঁকি দিয়েছে চাঁদ, ঈদুল আজহা ১০ জুলাই তিস্তা ও ধরলার পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি,৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি বিপৎসীমার ওপরে ধরলা-দুধকুমারের পানি সৌদি আরবে ঈদুল আজহা ৯ জুলাই চাকরির একমাত্র বিকল্প শিক্ষিত বেকারদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা
৩৪৪

এবারের ঈদে দশ ও বিশটাকার নতুন নোটের চাহিদা বেশি

বিশেষ সংবাদদাতাঃ

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২২  

নিয়মিত নতুন টাকা বেচা-কেনা হয় রাজধানী ঢাকার গুলিস্তানে। গুলিস্তান পাতাল মার্কেটের সিঁড়ির সামনের ফুটপাত ধরে দক্ষিণমুখী রাস্তায় কম দামে টাকার বিনিময়ে নতুন টাকা, নতুন টাকার বিনিময়ে ছেঁড়া ও পুরান টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ফুটপাত থেকে আবার ঈদের আগে টাকা দিয়ে টাকা বদল করে নতুন টাকার নোট নেন অনেকে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার শেষ মুহূর্তের বেচাকেনায় জমে ওঠেছে নতুন টাকার বাজার। তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে নতুন টাকার নোট। অনেকেই চড়া দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন, অধিকাংশ মানুষই বাড়তি দামে কিনছে নতুন টাকার নোট। তবে এবার ১০ ও ২০ টাকার নতুন নোটের চাহিদা অনেক বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরাসরি ব্যাংক থেকে নতুন নোট নিতে পারছেন না। আগে মোটামুটি নতুন নোট নেওয়া গেলেও এখন সেভাবে নতুন নোট পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে নতুন নোট আনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তাই বাড়তি দামেই নতুন নোট বিক্রি করছেন তারা।

জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৩ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বুধবার থেকে ৩২টি ব্যাংকে পাওয়া যাচ্ছে নতুন এসব নোট। যে কেউ পুরোনো নোট দিয়ে ব্যাংক থেকে নতুন নোট বিনিময় করতে পারছেন। তবে একজন গ্রাহক একবারের বেশি নতুন নোট বিনিময় করতে পারবেন না।

গুলিস্তানে নতুন টাকা বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ টাকার নোটে হাজারে ১৫০ টাকা, ২০ টাকার নোটে হাজারে ১০০ টাকা, ৫০ টাকার নোটে পাঁচ হাজারে ২০০ টাকা, ১০০ টাকার নোটে ১০ হাজারে ১২০ টাকা এবং ২০০ টাকার নোটে হাজারে ৫০ টাকা বেশি রেখে বিক্রি করা হচ্ছে।

নতুন নোটের ব্যবসায়ী আজিম খান জানান, ‘শেষ সময়ে এখন নতুন নোট ভালো বিক্রি হচ্ছে। এ সপ্তাহেই মূলত ঈদ কেন্দ্রিক বেচাকেনা জমে ওঠেছে। ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোট সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এরপর বেশি চলছে ৫০ ও ১০০ টাকার নতুন নোট। চাঁদরাত পর্যন্ত নতুন নোট বিক্রি হবে। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার বিক্রি খুবই কম।’

আরেক ব্যবসায়ী মো. রাজন বলেন, ‘নতুন নোট বিক্রি আগের চেয়ে অনেক কম। মানুষের কাছে টাকা-পয়সা নেই। আগের মতো বেচাকেনা হচ্ছে না। আগে হিসাব করলে অর্ধেকও বিক্রি হচ্ছে না। আবার ব্যাংক থেকে নোট (টাকা) দিচ্ছে না, পর্যাপ্ত নোট না আসায় দাম একটু বেশি। এজন্য আমরা বিক্রি করেও শান্তি পাচ্ছি না। ঈদকেন্দ্রিক বেচাকেনাটা চাঁদরাত পর্যন্ত হবে। মূলত ১০ ও ২০ টাকার নোট সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এরপর ৫০, ১০০ ও ২০০ টাকার নোট বেশি বিক্রি হচ্ছে। আর ২ ও ৫ টাকার নোট তো নেই বললেই চলে।’

নতুন নোট কিনতে আসা মিরাজ খান বলেন, ‘নতুন নোটের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। আগে যে নোট ১০০ টাকায় পেতাম সেটা এখন ২০০ টাকায়ও পাচ্ছি না। আমি ১০ টাকা ও ২০ টাকার দুইটি বান্ডিল নিয়েছি, প্রতি বান্ডিলে ১৫০ টাকা করে বাড়তি রেখেছে। অনেকেই তো বাড়তি দামের জন্য কিনতে পারছে না, ফিরে গেলো অনেকে। এটা তো আসলে খুশির বিষয়, ঈদে সালামি দেওয়ার জন্য কেনা। সুতরাং না কিনেও উপায় নেই, কারণ বাচ্চারা নতুন নোট পেলে একটু খুশি হয়।’

ফরহাদ.আর/রংপুর টাইমস