ব্রেকিং:
প্রকাশ্যে শাকিব-বুবলীর সন্তান শেহজাদ খান বীর বুড়িমারী স্থলবন্দর ৯ দিন বন্ধ থাকবে

শুক্রবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২   আশ্বিন ১৫ ১৪২৯   ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
গাইবান্ধায় ট্রাকচাপায় স্ত্রী নিহত, স্বামী আহত প্রকাশ্যে শাকিব-বুবলীর সন্তান শেহজাদ খান বীর বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ঘোষণা, চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১৬ কোটি টাকা দুর্গাপূজায় ভারতে যাচ্ছে ৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রংপুরের মানুষ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে দেখে আমি খুবই আনন্দিত
১২৩

ডিমলায় ফ্রী-ফায়ার ও পাবজি আসক্তি,বই বিমুখ শিক্ষার্থী

জামান মৃধা নীলফামারী:

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২২  

ফাঁকা মাঠে অথবা রাস্তার ধারে কিংবা যে কোন জায়গায় দেখা যায়, তরুণ বয়সি ছেলেদের জটলা। পাশ দিয়ে যেতে কানে আসে, মার! মার! ধর! ধর! গুলি কর! গুলি কর! গ্রেনেড মার! তাড়াতাড়ি গুলি কর! মাইরা ফালা! মোবাইল ফোনের গেমসের এসব কথা এখন নীলফামারী ডিমলা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামগঞ্জ পেরিয়ে বাজার, ফাঁকা জায়গা, রাস্তা ও যেকোনো অলিগলিতে।

 

সম্প্রতিকালে, করোনা ভাইরাসের কারণে একটানা বহুদিন বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যার ফলে, শিশু থেকে যুবকরা পড়ার টেবিল থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েছিল। স্বাস্থ্যবিধি ও বিভিন্ন বিধি নিষেধ, নিরাপদ দূরত্ব আর লকডাউনের কারণে তারা মাঠে খেলাধুলাও করতে পারিনি। এমন ঘরমুখী বন্দিজীবন এর আগে তারা কখনোই দেখেনি। বলা যায়,  প্রাত্যাহিক রুটিন জীবন থেকে সকল শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলো। আর সে কারণেই তারা মোবাইলে ভিডিও গেমসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা।

 

 গয়াবাড়ী স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র সৈকত, ইমরান, পলাশ, পরিমল এই প্রতিবেদককে বলেন, বিগত সময়ে গেমস সম্পর্কে কিছু জানতাম না। এখন নিয়মিত ফ্রি ফায়ার গেমস খেলার নেশা হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে নেট সমস্যায় এ গেমস খেলতে না পারলে মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার ইচ্ছা হয়। ফ্রি-ফায়ার গেমস যে একবার খেলবে, সে আর ছাড়তে পারবে না।

 

খেলায় আসক্ত একাধিক ছাত্র জানায়, ফ্রি-ফায়ার গেম খেলতে ডায়মন্ড কিনতে হয়। ১০০ ডায়মন্ডের দাম ৮০ টাকা। ১০৬০ ডায়মন্ডের দাম ৭৯০ টাকা। মেম্বারশিপ সপ্তাহে ১৭০ টাকা, মাসিক ৫১০ টাকা। এ ছাড়া প্রতিটা ইভেন্টে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ না করলে কিছুই হয় না।

 

তারা আরো বলেন, গেমটিতে প্রথমে কোনো খরচ ছিল না, কিন্তু পুরোপুরি মনোযোগী হলে এমন কিছু জিনিস আছে, যা না কিনলেই নয়। যেমন, অলকের দাম ৪০০ টাকা, একজন খেলোয়াড়ের জার্সি ৩০০ টাকা, নতুন ইভেন্ট এলেই ২০০০ এর নিচে যাওয়া যায় না। সম্পূর্ণ ড্রেস কিনতে লাগে ১২০০ টাকা আর রেগুলার ইভেন্টের কথা তো বলাই বাহুল্য। 

 

উল্লেখ্য, মোবাইল ফোনে অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে মানসিক অবসাদে নীলফামারী ডিমলা উপজেলায় গত (১০ই আগস্ট) আহসান হাবীব (১৮) নামের একজন কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে একাধিক তরুণের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই অনলাইন গেম, মুঠোফোন, কম্পিউটার বা ভিডিও গেমের ক্ষতিকর ব্যবহারকে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর আগে ২০১৩ সালে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত মানসিক রোগ নির্ণয়-বিষয়ক গাইডলাইনে (ডিএসএম-৫) বিষয়টিকে ‘ইন্টারনেট গেমিং ডিজঅর্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে গবেষণার ভিত্তিতে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

 

ডিমলা সদর ইউনিয়নের আবু রায়হান বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহার করেই তো এসব খেলতে হয়। আর ইন্টারনেট ডাটার যে দাম কি করে পেরে উঠবে অভিভাবকরা? তাছাড়া এই খেলার খেলোয়াড়রা যেভাবে কথা বলে তা দেখলে মনে হবে পাগল! সারাদিন বকাবকি করে। সারাদিনের এই বকাবকি তাদের ঘুমের ঘোরেও প্রভাব ফেলে। দিনে ব্যবহৃত বিভিন্ন রকমের শব্দ ঘুমের ঘোরেও বলতে শোনা যায়। 

 

আরো একজন অভিভাবক একাব্বর মিয়া বলেন, মূলত এই খেলার সুযোগ এসেছে সরকার অনলাইন ক্লাস শুরু পদ্ধতি থেকে। ক্লাসগুলো যদি অনলাইনে না দিয়ে কোনো টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে সর্বশেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতো, তবে আমার মনে হয় ভালোই হতো।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, অনেক ছেলে-মেয়েরা অনলাইন ক্লাসের নাম করে নতুন মোবাইল কিনেছে। কিন্তু ক্লাসে তাদের বিন্দুমাত্র মনোযোগ নেই।

 

গয়াখরিবাড়ি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার মনে হয় এভাবে চলতে দেওয়াটা ভালো ফল বয়ে আনবে  না। দেশ, সমাজ, জাতি অতিদ্রুত ধ্বংসের কবলে পড়তে যাচ্ছে। ব্লু-হোয়েলের মতো ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ার আগেই এই খেলা বন্ধ করা দরকার। সরকারের উচিত এই ব্যাপারেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

 

ডিমলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, বর্তমানে এ ফ্রি-ফায়ার নামক গেমে সবচেয়ে বেশি আসক্ত হচ্ছে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। অনেকেই এর খেলার পেছনে অর্থ ব্যয় করছেন। '

অভিভাবকসহ সমাজের সবাই মিলে এ বিষয়ে তদারকি না করলে ভবিষতে ফ্রি ফায়ার নামক গেম মাদকের চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাই এই বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে আহ্বান জানান।

এই বিভাগের আরো খবর