শনিবার   ০২ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৮ ১৪২৯   ০২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ উত্তাল আটলান্টিকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি টাইগাররা উঁকি দিয়েছে চাঁদ, ঈদুল আজহা ১০ জুলাই তিস্তা ও ধরলার পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি,৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি
১১৯

কৃষকের সোনালী স্বপ্ন পানির নিচে, কৃষকের চোখে জল

জামান মৃধা, নীলফামারী:

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২২  

নীলফামারী ডিমলা উপজেলায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীর পানি বেড়ে গেছে। এতে নিম্নাঞ্চলের ধানখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এ কারণে শ্রমিকেরা পানিতে নেমে ধান কাটতে অনীহা প্রকাশ করছে।

তাই এ অঞ্চলের কৃষক বাধ্য হয়েই বাড়তি টাকা দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের ধান বিক্রির সিংহ ভাগ টাকাই চলে যাচ্ছে শ্রমিকদের পকেটে। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

অনেকে বলেন, শ্রমিক সংকটে কেউ কেউ নিজেরাই নিজেদের ধান কাটা শুরু করেছেন। শ্রমিকের বাড়তি মজুরির কারণে উৎপাদন খরচ না ওঠার আশঙ্কা করছেন। এদিকে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে আধুনিক  হারভেস্টার কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

 

সরেজমিন উপজেলার সিংগাহাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, গত মাসে এ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কয়েক দফা কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে হেলে পড়া ধানসহ নিচু জমির ৯৫ শতাংশ ধান পেকে পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান পাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে বেশির ভাগ জমির ধান এখনো কাটতে পারেননি তারা।

 

সুন্দর খাতা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হোসেন জানান, তাঁদের এলাকায় মজুরীর দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় অনেক মাঠের নিচু জমির ধানখেত পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। হেলে পড়া ভেজা ধান কাটতে স্থানীয় শ্রমিকেরা অনীহা প্রকাশ করছে। গত বছর বিঘাপ্রতি ধান কাটতে ২/৩ হাজার টাকা খরচ হলেও এ বছর স্থানীয় শ্রমিকদের বিঘাপ্রতি ৫/৬ হাজার টাকা মজুরী দিতে হচ্ছে তাদের। ফলে কৃষকদের ধানের টাকা চলে যাচ্ছে শ্রমিকের পকেটে।

 

সর্দার হাট গ্রামের মামুন-অর-রশিদ বলেন, গত বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন এবং ভালো দাম পেয়েছিলাম। তাই এ বছর বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকা খরচ করে ১৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। এরই মধ্যে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ ও কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ধানগাছ হেলে পড়ায় ২৫ শতাংশ ধান চিটা হয়ে গেছে। এখন জমির ধান সম্পূর্ণ পেকেছে, অথচ শ্রমিক সংকটের কারণে মাত্র পাঁচ বিঘা জমির ধান কাটতে পেরেছি। স্থানীয় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের দেখা পেতেও অনেক সময় লাগছে। যেকোনো সময়  আবার ঝড় বৃষ্টি এসে ফসলের আরও ক্ষতি করতে পারে তাই চিন্তিত অনেক কৃষক। কিন্তু বাড়তি টাকা দিয়েও এখন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। 

 

কামাল উদ্দিনসহ ১৫/২০ জন শ্রমিক মজুরী বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বলেন, গত বছর ধান ভালো থাকায় আমরা মাঠ থেকে ধান কেটেছিলাম আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা  তারপরও আমাদের পুষিয়েছে। কিন্তু এবার কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে ধান হেলে পড়ায় ধান কাটতে খুব সময় লাগছে। এ জন্য এ বছর বিঘাপ্রতি ৪/৫ হাজার টাকায় ধান কেটেও পোষাচ্ছে না।

 

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ১১ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু আবাদ হয়েছে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে। 

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) সেকেন্দার এই প্রতিবেদককে বলেন,  এ অবস্থায় কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি। বৃষ্টির কারণে কোনো কোনো এলাকায় ধান কাটা শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি।

এই বিভাগের আরো খবর