ব্রেকিং:
২০ ডিসেম্বর থেকে দেওয়া হবে করোনা টিকার চতুর্থ ডোজ আড়াই বছর পর চালু হলো কুড়িগ্রামের বর্ডার হাট

বুধবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯   ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
কুড়িগ্রামে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু আজ ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট হানাদার মুক্ত দিবস গোলরক্ষকের বীরত্বে জাপানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টারে ক্রোয়েশি ব্রাজিলের শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে আজ সামনে দক্ষিণ কোরিয়া কেউ আমার লাশ পাইলে ফোন দিয়েন
১৭১

ভাঙ্গনের খেলায় মেতেছে সানিয়াজান নদী,গর্ভে সব কিছু

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২  

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায়  হঠাৎ ভাঙ্গনের খেলায় মেতেছে সানিয়াজান নদী। গত তিন বছর ধরে একে পার এক বসতভিটা,ফসলি জমি,রাস্তাঘাট নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকি রয়েছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও স্থাপনা। চলতি বছরের কয়েকদফা বন্যায় সানিয়াজান নদীর পানির বৃদ্ধিতে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করে। 

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভারত থেকে বয়ে আসা সানিয়াজান নদীটি হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া থেকে সানিয়াজান ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলো মিটার নদী পথের দু'ধারে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদীপারের বাসিন্দাদের দাবি অবৈধভাবে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতিবছর সানিয়াজান নদীর ভাঙ্গনে ফসলি জমি,বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙ্গনের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে ফকিরপাড়া ইউনিয়নের উত্তর দালাল পাড়া গ্রামের মিস্ত্রীপাড়া, দালালপাড়া, বাউরা ইউনিয়নের নাওহাট, এলাকায় নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিলীন হতে শুরু করেছে চলাচলের একমাত্র রাস্তা, ফসলি জমি,স্থাপনা।  দীর্ঘদিন ধরে নদীর বাঁধের ব্যবস্থা না হওয়ায় দিশেহারা পড়েছে ওই এলাকার মানুষ। 

 

স্থানীয়রা  দ্রুত একটি বাঁধের দাবি করেন। বলেন একটি বাঁধ হলে মানুষের চলাচল থেকে শুরু করে ফসলি জমি,বসতভিটা রক্ষা পাবে। 

 

জানা গেছে, চলতি বছরে সানিয়াজান নদীর কয়েক দফা বন্যা ও নদীর ভাঙ্গনে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের উত্তর দালালপাড়া গ্রাম থেকে সানিয়াজান ইউনিয়নের সানিয়াজান ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলো মিটারের ৫টি পয়েন্টে সানিয়াজান নদীর ভয়াবহ  ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে বসতভিটা,ফসলি জমি কবরস্থানবিভিন্ন স্থাপনা। হুমকির মুখে রয়েছেন উত্তর দালাল পাড়া মিস্ত্রীপাড়া এলাকার একটি সড়ক। সড়কটি নদীর গর্ভে চলে গেলে প্রায় তিন হাজার মানুষের চলাচলের কষ্টকর হয়ে পড়বে। ভয়াবহ ভাঙ্গনে সহায় সম্বল হাড়িয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। স্থানীয়রা সানিয়াজান নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে কয়েকবার আবেদন করেও কাজে আসেনি। 

 

দালালপাড়া মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের হযরত আলীর বলেন,সানিয়াজান নদীতে একের পর এক রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ভেঙ্গে যাচ্ছে। অতি দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা একটি বাঁধ চাই। বাঁধ হলে আমাদের সবকিছুই রক্ষা পাবে। 

 

উত্তর দালালপাড়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা হানিফ উদ্দিন বলেন, সানিয়াজান নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় এমপি মহোদয়ের কাছে আবেদন করেছি। এক বছরেও তার কাজ শুরু হয়নি। গ্রামটি ও একমাত্র রাস্তাটি রক্ষা করতে খুব দ্রুত একটি বাঁধের প্রয়োজন। তা না হলে গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষের চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। 

 

পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের ছিট জমগ্রামে সাফিউল ইসলাম বলেন, সানিয়াজান নদীর নতুন ব্রীজ নাওহাট বাজারের এলাকায় নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে অনেক পাকা দোকান পাট ও ঘরবাড়ি ঝুকির মধ্যে পড়েছে।

 

ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলার রহমান খোকন বলেন,অত্র ইউনিয়নের সানিয়াজান নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কে অনুরোধ করেছি। 

 

লালমনিরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, সানিয়াজান নদীর ভাঙ্গন দেখতে লোক পাঠানো হবে। পাশাপাশি ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নোট করে নিলাম আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা হবে। 

এই বিভাগের আরো খবর