ব্রেকিং:
১৫ আগস্ট,ইতিহাসের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর এক দিন লালমনিরহাটে সাংবাদিকের ওপর হামলার মূল হোতা গ্রেফতার বাড়ছে চালের দাম

সোমবার   ১৫ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯   ১৭ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
১৫ আগস্ট,ইতিহাসের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর এক দিন দেশে কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলবেনা- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী লালমনিরহাটে সাংবাদিকের ওপর হামলার মূল হোতা গ্রেফতার জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
৭২

ডিমলা গয়াবাড়িতে সংযোগ সড়ক ছাড়াই গার্ডার ব্রীজ নির্মাণে ভোগান্তি

(জামান মৃধা নীলফামারী)

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২২  

নীলফামারী ডিমলা উপজেলায় গয়াবাড়ি ইউনিয়নের পাউবো ক্যানেলের উপর গার্ডার ব্রীজ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে আজিজুল মাষ্টারের বাড়ি থেকে শিক্ষক পাড়া গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশে বিকল্প রাস্তা নির্মাণ না করে পুরনো ব্রিজ ভেঙে ফেলায় এই দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সহবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শ্বেে রাস্তার ভাঙ্গায় ক্যানেলের উপর  নির্মিত হচ্ছে ১৫.০০ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ সেতুর জন্য সহায়তা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় ৬৩ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত। ব্রিজটি গত ০১/০১/২২ইং শুরু হয়ে আগামী ৩০/০৬/২২ইং তারিখ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজের ধীর গতির কারণে আগামী ছয় মাসেও শেষ করতে পারবে কিনা সন্দেহ করেন এলাকাবাসি।

 

জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি একাধিক গ্রামের হাজারো জনসাধারণের ডিমলা উপজেলাসহ শুটিবাড়ি বাজার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসা, হিন্দু ধর্মালম্বীদের বিভিন্ন উপাসনালয় ও স্থানীয় গ্রামঞ্চলের যাতায়াতের একমাত্র পথ। ওই স্থানের পুরনো ব্রিজটি ভেঙে ফেলার পর দুই পাশের রাস্তার মাটি এমন  খাড়াখাড়ি ভাবে কাঁটা হয়েছে যে, তাতে বৃদ্ধসহ নারী ও শিশুদের পক্ষে ওঠানামা করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে তখন কাঁদাপানিতে জায়গাটি পিচ্ছিল হয়ে সবার পক্ষে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, বিশেষ করে ওই রাস্তাটি দিয়ে আমাদের মতো স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়েই যেতে হয় আর বৃষ্টি হলে তো আসা-যাওয়াটাই মুশকিল।

 

টেন্ডার চুক্তি অনুযায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকালে সর্বসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্নে করতে বিকল্প রাস্তা তৈরির বরাদ্দ থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাগণ শত অনুরোধ সত্ত্বেও কর্ণপাত করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই জলাশয়ে পরিণত হয়েছে নির্মাণাধীন স্থানটি। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যোগাযোগ  বিছিন্ন হয়েছেন এ গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। 

 

স্থানীয় বাসিন্দা আশাদুল ইসলাম বলেন, কাজ শুরু করার সময় আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প রাস্তা তৈরির জন্য বার বার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা করেন নাই। শুষ্ক মৌসুমে ব্রিজের নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারলেও বর্তমানে আমরা অনেকটাই গৃহবন্দি হয়ে আছি। 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদা আক্তার বলেন, বিকল্প রাস্তা তৈরি না করায় গত ছয় মাস ধরে ওই রাস্তা দিয়ে আমরা যাতায়াত করতে পারছিনা। এছাড়া কাঁটা নালা (ব্রিজ নির্মাণের জন্য খাল) দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানা আক্তার (৮) পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলো। স্থানীয় লোকজন দেখে তাকে উদ্ধার করে।

 

এ বিষয়ে, নীফামারীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এন কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমিতো কাজ করছি না, ডোমারের ঠিকাদার নয়ন কাজ করছে তার সঙ্গে কথা বলেন। নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) স্যার আমাকে ফোন দিয়েছিলো আমি বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করে দিব। 

 

জনগণের ভোগান্তি প্রসঙ্গে কথা বললে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেজবাহুর রহমান ঠিকাদারের পক্ষ অবলম্বন করে বলেন, এই মুহূর্তে গার্ডার ব্রিজের কাজ করা সম্ভব নয়! ৩০শে জুন কাজ সমাপ্তি প্রসঙ্গে বলেন,  প্রজেক্টের কাজ, সময় বৃদ্ধি করা হবে। জনভোগান্তি প্রসঙ্গে বলেন, এই স্রোতে বিকল্প রাস্তা তৈরি করা সম্ভব নয়, এরপরেও ঠিকাদারকে বলে দিব বিকল্প রাস্তা তৈরি করার জন্য।

এই বিভাগের আরো খবর