বুধবার   ১৮ মে ২০২২   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৯   ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
জিআই সনদ পেলো বাগদা চিংড়ি পঞ্চগড়ে ট্রেনের টয়লেটে মিললো বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ রংপুরে ভারি, অন্যান্য স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে পারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে আয় ৩০০ কোটি ছাড়িয়েছে: বিএসসিএল উন্নয়ন প্রকল্পের সমালোচকদের একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী
২৩৬

নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ৬ দফা দাবি

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২২  

তিস্তা নদী খনন ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তিস্তা চুক্তি সইসহ ৬ দফা দাবিতে তিস্তার পারে কনভেনশন করেছে তিস্তা বাচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। শনিবার (১৪ মে) দুপুরে তিস্তা ব্রিজ এলাকায় লালমনিরহাটের তিস্তা ডিগ্রি কলেজ মাঠে কনভেনশনে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।

 

শনিবার দুপুর ১২ টায় শুরু হওয়া এ কনভেনশনে যোগ দেন তিস্তাপারের ৩২০ কিলোমিটার এলাকার ভাঙন কবলিত হাজার হাজার মানুষ। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে রংপুর বিভাগের তিস্তা পাড়ের মানুষরা এই কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করে অংশ নেন।

 

তিস্তার দুই পাড়ে নীলফামারি, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্দার পাড়ের লোকজন সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকে কনভেনশন মাঠে। বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন জেলার মানুষজন বৃষ্টিতে ভিজে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তিস্তা কলেজ মাঠ।


লোকজনের দাবি, তিস্তার কড়াল গ্রাসে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন তারা। বাপ দাদার ভিটেমাটি টুকু হারিয়ে নিঃস্ব এসব লোক অতিসত্তর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ও তিস্তা চুক্তি সইয়ের দাবি জানান।


কনভেনশনের মূল পত্র উপস্থাপনে রিভারাইন পিপলস এর পরিচালক ও নদী গবেষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, তিস্তার ভাঙনে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘশ্বাসে তিস্তাপাড়ের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে। এসব মানুষের করুন কান্নার সুর ভেসে বেড়ায় তিস্তা পাড়ে। এর কারণ যতটা না প্রাকৃতিক চেয়ে ঢের বেশি মনুষ্য সৃষ্টি। সরকার পরম্পরায় এ দায় কেউ এড়াতে পারেনা। এসব অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে তিস্তাকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরিচর্যা জরুরি। 

 

সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, তিস্তা নদীকে বলা হয় উত্তরের জীবন রেখা। প্রত্যক্ষ এবং পরােক্ষভাবে এ নদীর ওপর দেশের দুই কোটি মানুষ নির্ভরশীল। এ নদী এবং নদীপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্য দেশীয় এবং আন্তদেশীয় ব্যবস্থাপনা জরুরি।

 

স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সফিয়ার রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও মাত্র সাড়ে আট হাজার কোটি টাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প ২ বছর থেকে ঝুলে আছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চায়নার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমীক্ষা করলেও কূটনৈতিক জটিলতায় তা আটকে আছে। তাই আমরা চাই এসব জটিলতা বাদ দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক। তিস্তা খননের এই প্রকল্পটি আগামী বাজেটে বরাদ্দ দেয়া না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচিতে যাবেন বলেও জানান তিনি।

 

কনভেনশনে অন্যান্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম কানু, পরিবেশকর্মী ও সিনিয়র সাংবাদিক  আব্দুর রব সুজন, রাজারহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নুর মোঃ আক্তারুজ্জামান, লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক  গোলাম মোস্তফা  গোলাম মোস্তফা স্বপন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক  নুরুজ্জামান খান, তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য  আব্দুর রাজ্জাক,  সাদেকুল ইসলাম, তিস্তা  কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সাজু সরকার,  রাজারহাটের ঘড়িয়াল ডাঙা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো খবর