শনিবার   ০২ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৮ ১৪২৯   ০২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ উত্তাল আটলান্টিকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি টাইগাররা উঁকি দিয়েছে চাঁদ, ঈদুল আজহা ১০ জুলাই তিস্তা ও ধরলার পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি,৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি
৩৫

ডিমলায় বানভাসীদের দুর্ভোগ

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২২  

 নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার বন্যার পানি একটু কমলেও বানভাসীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০) ২৪ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৮৪) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সোমবার বিকাল ৩টায় একই পয়েন্টে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয় হতে ২ মেট্রিক টন চাল ও ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরন করা হয়। তিস্তা বেষ্টিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সরকারীভাবে যে ত্রান বিতরন করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল মর্মে জানায় ইউপি চেয়ারম্যানগন।

 

বন্যা কবলিত এলাকায় খো-খাদ্য চরম সংকট দেয়া হয়েছে। 
তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। প্রচন্ড শব্দে নদীর একুল ওকুল দুই কুল কাঁপিয়ে তুলেছে নদী। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ও সকাল ৯টায়  বিপদসীমা বরাবরে প্রবাহিত হলেও দুপুর ১২টায় বিপদসীমার  ১০ সেন্টিমিটার ও বিকাল ৩টায় ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এই পানি ভাটিঅঞ্চলে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারন করবে। 
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা উদ দৌলা জানান, ভুটানের অতিভারী বৃস্টি নেমে আসায় ও উজানের  গজলডোবার লকগেট খুলে দেয়ায় ঢল নেমেছে।  
এদিকে একটি সুত্র জানায় গজলডোবার জলকপাটগুলো উন্মুক্ত করে প্রতি সেকেন্ডে পানি ছাড়া হয় দুই হাজার ৪৫৭ কিউসেক করে। মাত্র কুড়ি মিনিটে পানি ছাড়া হয় প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ কিউসেক। ফলে ভয়ঙ্কর রূপে গর্জে ওঠে তিস্তা  নদী। ভারতের দো-মোহনী পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৮৫.৯৫ মিটার) চেয়ে ৩ সেন্টিমিটার  ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। প্রবল স্রোতে শোঁ শোঁ শব্দে রাক্ষুসীরূপে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তিস্তা অববাহিকা এলাকা কাঁপিয়ে তুলছে।
এদিকে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এলাকাগুলো হলো পশ্চিম ছাতনাই, পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা,শৌলমারী ও কৈমারী । 
হঠাৎ তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাড়ের মানুষ বড় বন্যার আশঙ্কা করলেও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দাবি, তিস্তায় বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। বৃষ্টির কারণে উজানের ঢেউয়ের ফলে পানির প্রবাহ বেড়েছে। ভারতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। তাই ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির প্রবাহ কমে যাবে বলে দাবি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখা। পলি ও বালু জমে তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্য পানির প্রবাহ লোকালয়ে ঢুকে বন্যার সৃষ্টি করে। তবে আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ দিয়েছেন বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র। 


টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানায় , তার ইউনিয়নের সহ¯্রাধিক পরিবারের বসতবাড়ীতে হাটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে। তিস্তার উজানে তেলির বাজার সংলগ্ন স্বপন বাধে বন্যার পানি প্রবেশ করায় হাটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ২শতাধিক পরিবার বসতবাড়ী ছেড়ে তিস্তার বামতীরে গ্রেয়িং বাধে আশ্রয় নিয়েছে। খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুজ্জামান সরকার বলেন, ছোটখাতা, বাইশপুকুর ও সুপারীটারীর সহ¯্রাধিক পরিবারের বসতবাড়ীতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। 


খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন জানায়, কিসামত ছাতনাই গ্রামের ২শতাধিক পরিবারের বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এছারা দোহলপাড়াসহ তিস্তার নিচু এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করারয় ৪শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ।


তিস্তার বন্যার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস আলমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগন পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার বিকালে খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৪শ পবিরারকে শুকনো খাবার বিতরন করেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন। এ শুকনো খাবারে মধ্যে রয়েছে চাল ১০কেজি, লবন, সয়াবিন তেল, ডাল, চিনি ১কেজি করে, ১০০গ্রাম শুকনো মরিচ, হলুদ ২শ গ্রাম, মসলা ১০০গ্রামসহ ১০টি পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা ইউপি চেয়ারম্যানদের নিকট চাওয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়া মাত্র  বরাদ্দ দেয়া হবে।
    

এই বিভাগের আরো খবর