ব্রেকিং:
২০ ডিসেম্বর থেকে দেওয়া হবে করোনা টিকার চতুর্থ ডোজ আড়াই বছর পর চালু হলো কুড়িগ্রামের বর্ডার হাট

বুধবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯   ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
কুড়িগ্রামে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু আজ ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট হানাদার মুক্ত দিবস গোলরক্ষকের বীরত্বে জাপানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টারে ক্রোয়েশি ব্রাজিলের শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে আজ সামনে দক্ষিণ কোরিয়া কেউ আমার লাশ পাইলে ফোন দিয়েন
৩১

ডিমলায় জাল দলিল চক্রের সদস্যরা সক্রিয়। আতঙ্কে ভূমি ক্রেতাগণ

(জামান মৃধা, নীলফামারী প্রতিনিধি):

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২২  

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ভূমিদস্যু ও জাল দলিল চক্রের মূলহোতাদের গ্রেফতারের দাবিতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে গণস্বাক্ষর করে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।

 

 অভিযুক্তরা হলেন, মাজেদুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম, রনজিৎ ভূইমালী, মাহবুব জামান, ময়েন কবীর ও জাহাঙ্গীর আলমসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জন।

 

জানা যায়, গত শুক্রবার (১১ই নভেম্বর) এই জাল দলিল চক্রের মাজেদুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিমলা থানা পুলিশ। তাঁদের কাছে ভারত ও পাকিস্তানের অনেক পুরাতন এবং দেশীয় শতাধিক সরকারি রেভিনিউ স্ট্যাম্প ও দলিল জাল করার উপকরণসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সাব-রেজিস্ট্রার ও ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জাল সই-সংবলিত ১৬৫ টি সীলমোহর  উদ্ধার করে ডিমলা থানা পুলিশ।

 

অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভূমিদস্যু ও জাল দলিল চক্রের মুলহোতা মাজেদুল, রনজিৎ ও ময়েন কবিরগং দলিল জালিয়াতি থেকে শুরু করে ভূমি দখল, ভূমি রেকর্ড জালিয়াতি, ভুয়া নামজারিসহ জমি রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করে দেওয়ার এমন অসংখ্য অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা জাল দলিলের মাধ্যমে অন্যের ভূমি দখল করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। একইসঙ্গে জাল দলিল বানিয়ে অন্যকেও জমি দখল করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন তারা। বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা। এছাড়াও টাকার বিনিময়ে যেকোনো জমির ভুয়া রেকর্ড, মাঠপর্চা, দাগ-খতিয়ান নাম্বার  নামজারিও করে আসছেন। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ।

তাদের দখলবাজির শিকার হয়ে এই চক্রের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মামলাও করেছেন অনেকে। ইতোমধ্যে এই জাল দলিল চক্রের প্রতারণামূলক করা ৩০০/২০১৮-১৯ নং নামজারীসহ ২৪৩৪ নং হোল্ডিং বাতিল করে দেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইবনুল আবেদীন। এছাড়াও এই চক্রের আরো দুটি জাল দলিল বাতিল করে দেন রংপুরের সাব-রেজিস্ট্রার।

 

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসির দাবী,  এরপরও এই ভুমিদস্যু ও জাল দলিল চক্রের অপকর্ম-জালিয়াতি থামছে না, বরং দিন দিন বাড়ছে। এতে এলাকার প্রকৃত জমির মালিকরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এছাড়াও সুকৌশলে সাধারণ মানুষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা এই চক্রের আরেকটি জালিয়াতির পদ্ধতি। এভাবে তারা উভয়পক্ষের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করেন। একইসঙ্গে খাস জমি লিজ পাইয়ে দেওয়ার নামকরে নিম্ন আয়ের সহজ-সরল মানুষকে ঠকানোও এই চক্রের আরো একটি কাজ।

 

ভুক্তভোগীরা বলেন, এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে রয়েছেন একটি প্রভাবশালী মহল। আর এ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ময়েন কবির। আর নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন তিনি। তার সঙ্গে অনেক কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাত রয়েছে বলেও শোনা যায়। আর এ সুবাদেই চলে তাদের এসব অপকর্ম। এছাড়াও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমাও তাদের হাত দিয়েই বেশি চলে এমনও অভিযোগ করেন অনেকেই। কেউ যদি এলাকায় জায়গা জমি বিক্রি করতে চান, তাহলে তাদেরকে আগে নির্দিষ্ট টাকা দিতে হয়। তা না হলে, ভূমি রেজিস্ট্রি করার সময় ঝামেলা লাগিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন তারা।

 

জানা গেছে, ভূমির সকল পর্যায়ের জাল কাগজপত্র, রেভিনিউ স্ট্যাম্প ও সীলমোহর রয়েছে তাদের নিকট। এমনকি জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প, ভূমি কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে নকল তৈরি করা সিল ও জাল স্বাক্ষরের ব্যবস্থাও আছে এই চক্রের নিকট। একইসঙ্গে অনেক পুরাতন বিভিন্ন আমলের রেভিনিউ স্ট্যাম্পও আছে এই জাল দলিল চক্রের হাতে।

 

ভুক্তভোগী (অবসরপ্রাপ্ত) সেনা সদস্য সার্জেন তহিদুল ইসলাম জানান, ময়েন কবির ও তার ভায়রা আনারুল জাল দলিল করে আমার ২৬ বিঘা জমি জবরদখল করে নিয়েছে। এরা রাতের আঁধারে জমি দখল কাজে বাড়ীর মহিলাদের ব্যাবহার করে থাকে।

 

আরো ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন-অর-রশিদ ও মহুবার রহমান বলেন, ময়েন/মাজেদগং এলাকার কুখ্যাত ভূমিদস্যু এমনকি এরা মৃত ব্যাক্তিদের নামেও জাল দলিল তৈরি করে। তাদের এই কাজে রংপুরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা/কর্মচারী জড়িত। এই ভূমিদস্যু ও ভূমি জালচক্রের সুনিদৃষ্ট কোনো আয়ের উৎস নেই। জাল-জালিয়াতি করেই রাজার হালে চলে তারা।

 

আরেক ভুক্তভোগী মশিয়ার রহমান জানান, ২০০৯ সালে ৪৫৭ দাগে বাবুরহাট মৌজায় হোসেন আলীর নিকট ১৫ শতাংশ জমি ক্রয় করি।দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আমার ভোগদখলে থাকা জমি গত ১৯শে ডিসেম্বর ২০২১ইং গভীর রাতে ময়েন কবিরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টিনের চালার ঘর উঠিয়ে আমার দখলীয় ভূমি জোর জবর দখল করে নেয়। পরে তাদের দলিলটি জাল প্রমাণের জন্য ডিমলা উপজেলা ভুমি অফিসে অভিযোগ করি। সেই অভিযোগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাদের নামজারিসহ হোল্ডিং বাতিল করে দেয়।

 

একই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা নুর আমিন, আলতাফ হোসেন, জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকে  

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন ময়েন কবির জানান, এটা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র। আমি এসবের বিষয়ে কিছুই জানিনা। আর কেউ অভিযোগ করতেই পারে, তদন্ত সাপেক্ষে দোষী প্রমাণিত হলেই আমি দোষী নচেৎ এসবের কোনো ভিত্তি নেই।

 

আরেক অভিযুক্ত হাফিজুল ইসলাম বলেন, এসব মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ। আমি রনজিৎ ভুইমালীর কাছে জমি কিনেছি। রনজিৎ ভুইমালীর সঙ্গে অনেকের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধপূর্ণ মামলা চলছে । তারাই একজোট হয়ে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে আমার বিরুদ্ধে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, জাল দলিল চক্রের বিষয়ে অবগত হয়েছি। আমরা সবসময়ই এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে। জাল দলিল চক্র ও ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। খুব শীঘ্রই এই পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। 

এই বিভাগের আরো খবর