মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২   আষাঢ় ১৩ ১৪২৯   ২৮ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
চাকরির একমাত্র বিকল্প শিক্ষিত বেকারদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা সোমবার থেকে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ ৯০ মিনিটের নদীপথ পার ৬ মিনিটে বাংলাদেশ আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে : প্রধানমন্ত্রী দ্বার খুলল স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পদ্মা সেতু উদ্বোধন: মানুষের ঢল
৩১৬

কুড়িগ্রামে পেট্রল-অকটেনের তীব্র সংকট

প্রকাশিত: ৭ মে ২০২২  

কুড়িগ্রামে পেট্রল ও অকটেনের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। তিন চারদিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সীমিত পরিসরে পেট্রল পাওয়া গেলেও শূন্য হয়ে পড়েছে অকটেন। ফলে গাড়ি চালকরা ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, মজুত শেষে নতুন করে সরবরাহ না পাওয়ায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। রোববার (৮ মে) রাত থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তবে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে গ্রাম পর্যায়ে খোলাবাজারে দ্বিগুণ দামে পেট্রল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজন মেটাতে অনেকে তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

জেলা শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, মজুত কম থাকায় পেট্রলের সরবরাহ সীমিত করেছেন মালিকরা। গাড়িপ্রতি এক বা দুই লিটারের বেশি বিক্রি করছেন না। অকটেন না থাকায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালকরা চাহিদা অনুযায়ী পেট্রল নিতে পারছেন না। পেট্রলচালিত অন্য যানবাহনের মালিকরাও একই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

জ্বালানি সংকটে বিড়ম্বনায় পড়া জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া এলাকার বাসিন্দা মাইদুল বলেন, ‘এলাকায় পেট্রল খুঁজেই পাচ্ছি না। পরিচিত এক দোকানি দিলেন কিন্তু এক লিটারের দাম নিলেন ১৭০ টাকা।’

জেলা শহরে মোটরসাইকেল নিয়ে আসা মিজান নামে এক গ্রাহক জানান, তিনি তার মোটরসাইকেলে অকটেন ব্যবহার করেন। কিন্তু তিনদিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে পেট্রল নিয়েছেন। কিন্তু সেটাও চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছেন না।

ফিলিং স্টেশনগুলোর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে জেলায় জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে। ফলে তারা যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পেট্রল ও অকটেনের মজুত করেছিলেন তা অতিক্রম করায় সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদে টানা বন্ধের ফাঁদে পড়ে নতুন করে সরবরাহ না পাওয়ায় এ সংকট তীব্র হয়েছে। ডিপোগুলোতেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফিলিং স্টেশন মালিক বলেন, ‘সরবরাহ না পেলে আমরা কী করবো! গত বৃহস্পতিবার তেল সরবরাহ করলে এ সংকট তৈরি হতো না। কিন্তু ডিপোগুলোতে তেল নেই। তেলের জন্য গাড়ি পাঠালেও শূন্য গাড়ি নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। আগামীকাল রোববার রাত থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।’

পদ্মা অয়েল কোম্পানির রংপুর বিভাগীয় কর্মকর্তা খন্দকার মারুফ রহমান বলেন, গত ২৮ এপ্রিলের পর রংপুর ডিপোতে নতুন করে তেলের সরবরাহ পাওয়া যায়নি। রোববার থেকে পাওয়া যাবে। তবে কুড়িগ্রামে আমাদের ডিলারদের তেলের সংকট হওয়ার কথা নয়। ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বাড়ায় সংকট তৈরি হয়ে থাকলে রোববার থেকে তা স্বাভাবিক হবে।’

ডিপোগুলোতেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ কিছুটা কম ছিল জানিয়ে মেঘনা অয়েল কোম্পানির রংপুর বিভাগীয় কর্মকর্তা গোলাম ইয়াছিন জাগো নিউজকে বলেন, গত কয়েকদিন আমাদের ডিপোগুলোতে সরবরাহ কম ছিল। আর ঈদে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। রোববার থেকে ধারাবাহিকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। জেলার ফিলিং স্টেশন মালিকসহ রংপুর বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলেছেন সংকট নেই। সরবরাহ নিয়ে যেটুকু সমস্যা হয়েছে তাও খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’ তবে কোনও ফিলিং স্টেশন সংকট তৈরি কিংবা জ্বালানির তেলের দাম বেশি নিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর